বাংলাদেশ মানুষ একটি পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ থেকে যে পরিবর্তন আসবে, তা আসবে এ দেশের মানুষের পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানবো না, আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমাদের এই ১১ দল আপনাদের আকাক্সক্ষায় বাংলাদেশ পরিচালিত করবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মানিত আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, চৌদ্দগ্রামের প্রতি ইঞ্চি মাটি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে খুব ভালোভাবেই চিনে, তাই আপনাদের সামনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মানে মাসির সামনে মায়ের গল্প বলার মত।
আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাচ্ছি না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান চৌদ্দগ্রামে ১১ দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এই প্রতীককে সামনে নিয়ে এগারো দলকে লড়ে যেতে হবে। যেখানে যে প্রতীক, আমরা সেই প্রতীকের সঙ্গী হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ, এভাবে ১১ দলের বিজয় চূড়ান্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সত্যের বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। ৫ আগস্টের পরে আপরারা দেখেছেন, কার কী চরিত্র। যারা আমাদের সম্পদে হাত দেয়, আমার জীবনে হাত দেয়, যারা নিজেদের জীবনকেই শেষ করে দেয় এবং যারা আমার মায়েদের ইজ্জতে হাত দেয়, মায়েদের পেটে লাথি মারে, মায়েদের কাপড় খুলে নেয়ার হুঙ্কার দেয়, তাদের হাতে কি বাংলাদেশের ৯ কোটি মা-বোন নিরাপদ? সাধারণ পোশাক পরা মহিলাও এখন জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে। এটিই তাদের পেরেশান করে তুলেছে! ভাই, আপনাদেরওতো ঘরে মা আছেন, স্ত্রী আছেন, জায়া আছেন। অন্তত তাদের দিকে তাকিয়ে নারীদের সম্মান করতে শিখুন।
তিনি বলেন, অনেকে জুলাইকেও স্বীকার করেছেন বা করেনও না। এদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল করেছেন। জুলাইয়ের ছেলেরা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি। আল্লাহর ওয়াস্তে সেই পথ থেকে ফিরে আসুন। অন্যের মতের প্রতি সম্মান দেখান, নিজের চরিত্র নিয়ে মানুষের কাছে যান, আদর্শ নিযে যান। জনগণ বিচার-বিবেচনা করবে। আমাদের মায়েদের উপর হাত দেবেন আর আমরা বসে বসে দেখব, এটা হতে পারে না। তখন আমাদের জবার দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে ফিরে আসুন। মায়ের জাতিকে সম্মান করুন। তিনি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার তো স্পষ্ট; চাঁদাবাজিসহ যত দুর্নীতি আছে, আমরা এগুলোর জড় কেটে দিতে চাই। এতে কারও ভয় পাওয়ার তো কিছু নাই। জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না। তিনি বলেন, একসময় আপনারাও তো মজলুম ছিলেন। আমার বুঝে আসে না, মজলুম কীভাবে জালিম হয়? আমরা আশা করি, সংশোধন হবেন।
কওমী মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আছেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি তার বংশীয় ধারাক্রমে কওমীর একজন প্রতিনিধিত্বকারী। তাকে সাথে নিয়ে কি আমরা কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করব নাকি? এরকম আরও অনেকে আমাদের সাথে আছেন। কওমী বন্ধের গুজব মিথ্যা। তবে মানুষ পোড় খেতে খেতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, মানুষ আর গুজব কানে তুলে না। আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে বেফাকের সাথে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো। এখানে আরও মাদ্রাসার প্রতিনিধি আছেন। দ্বীনি শিক্ষাটি ধরে রেখেছে কওমি মাদরাসা। আমরা দ্বীন চাই, কেন আমরা কওমি মাদরাসা বন্ধ করবো? তিনি বলেন, জুলাইয়ে আবু সাঈদ জীবন দিয়েছিল ছাত্রদের অধিকার রক্ষার জন্য। সে নিজের বুকের ডানা মেলে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমারে গুলি কর। আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, বিগত ১৫ বছর যারা জুলুমের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের। এই জুলাইয়ের যুবক যুবতীরা বেকার ভাতা চায়না। তারা তো বলেন, আমাদের বেকার বাধা দেন। তাহলে কেন বেকার ভাতার প্রসঙ্গ আসলো? আমরা তাদের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। আমরা দেশটিকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আর বাস্তব প্রমাণ হলো যুবক তরুণদের দল আমাদের সাথে আছে। নির্বাচনে ক্যান্ডিডেট যাদের করেছি তাদের ৬২ ভাগ যুবক। এটা হবে তরুণ্যের বাংলাদেশ। এটা হবে যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশ। শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাই। এই শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কিছু হবে না। বেটার এডুকেশন, বেটার নেশন। এডুকেশন যদি ভালো না হয়, তাহলে একটা ভালো জাতি আমরা গড়ে তুলতে পারবো না। আমাদের এই এডুকেশন দিয়ে আমাদের দুনিয়া না আমাদের আখেরাত, কোনটাই কাভার করা যায় না। এখানে বড় পরিবর্তন লাগবে আমাদের। এছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জ কোনাখোলা ও কলাবাগান সরকারি স্টাফ কোয়াটার মাঠে গতকাল জনসভায় বক্তব্য ডা. শফিকুর রহমান। এসময় সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
















