বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে এ অপারেশন শুরু হয়। দেশের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শনিবার সাড়ে ৮টায় অপারেশন শুরু হয়। আলহামদুলিল্লাহ।
অপারেশন ভালোভাবে শেষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ৫ মিনিট সময় লেগেছে অপারেশনে। এর আগে ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ডা. শফিকুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সেদিনের প্রাথমিক পরীক্ষায় বড় কোনো জটিলতা পাননি, তবে ধারণা করেছিলেন তিনি ডিহাইড্রেশনে ভুগেছেন। ওই ঘটনার পর দুই দিনের বিশ্রাম শেষে তিনি রংপুর, খুলনা, মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষায় হৃৎপিন্ডে ব্লক ধরা পড়ে। এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা না নিয়ে দেশেই চিকিৎসা নিতে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন। দেশের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাইপাস সার্জারীর সফলতা ও আশু আরোগ্য কামনায় নগরবাসী সহ দেশের সকল স্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক দোয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের শেরেবাংলা নগর থানা আয়োজিত ডা. শফিকুর রহমানের বাইবাস সার্জারীর সফলতা ও আশু আরোগ্য কামনায় এক দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য ও শেরেবাংলা নগর থানা উত্তরের আমীর মু . আব্দুল আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে এবং শেরেবাংলা নগর থানা উত্তরের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমীর শাহ আজিজুর রহমান তরুণ, থানা এইচ আর ডি সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। ড. রেজাউল করিম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার জন্য সাধারণ মানুষের মনে মনিকোটায় স্থান করে নিয়েছেন। তার তেজোদীপ্ততা ও দৃঢ়তা তাকে অনন্য ও বিরল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি ১৯ জুলাই জাতীয় সমাবেশে সভাপতির ভাষণ দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে যান এবং তৎক্ষনাৎ ওঠে জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ বলে ঘোষণা দিয়ে মানুষের ঈমানকে উদ্দীপ্ত করে দেশ ও জাতির কান্ডারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালে পল্টন ট্রাজেডির দিনেও শহীদ আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীও এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাই দেশকে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করতে দেশে সফল ইসলামী বিপ্লবের কোন বিকল্প নেই। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে জামায়াতের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
















