তুরস্ক প্রতিনিধি :
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী দেশত্যাগ করে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রতিবেশি দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ তুরস্কের মতো দেশেও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা। নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ডজন খানেকের বেশি আওয়ামী লীগ নেতা তুরস্ক আশ্রয় নিয়েছেন। কিছুদিন আগে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদও তুরস্কের পাসপোর্ট নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক শিবিরকর্মী ওমর ফারুক হেলালী তুরস্কে এই নেতাদের নিরাপত্তা এবং আশ্রয় প্রদান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা যায়, ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষের দিকে ভয়াবহ পরিস্থিতি ও অসংখ্য ছাত্র হত্যার ঘটনায় নিজাম হাজারীর প্রকাশ্য ভূমিকা ছিল। সেই নিজাম হাজারীসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কে সেল্টার দিতে সাহায্য করে আসছে এই হেলালী। গত বছর চিকিৎসার নাম করে নিজাম হাজারী তুরস্কে আসলে ওই সময় তিনি তুরস্কে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে একাধিক সম্পত্তি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এই অর্থ পাচার এবং সম্পত্তি ক্রয়ে সহায়তা করেছেন ফেনীর ওমর ফারুক হেলালী। যিনি তুরস্কে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এবং রেস্টুরেন্টের মালিক বলে দাবি করছেন। এ ছাড়া বেনজির আহমেদকে তুরস্কে অর্থ পাচার ও বাড়ি কিনে নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করেছেন হেলালী।
প্রসঙ্গত, ওমর ফারুক হেলালী খুব সাধারণ নিম্নবৃত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে। তিনি ২০১৫ সালে তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে স্নাতক পড়াশোনার জন্য সেখানে যান। এর পূর্বে সে ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তুরস্কে এসে অল্প সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংস্থা এবং এনজিও গঠন করে তুরস্কের নাগরিকদের থেকে অর্থ অনুদান সংগ্রহ করতে শুরু করেন এবং নিজের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন এবং রাতারাতি হাজার কোটি টাকা সম্পদের মালিক বনে যান। এ ছাড়া তুরস্কে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রবাসীদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জর্ডান প্রবাসীদের বিনিয়োগকৃত একটি রেস্টুরেন্ট এশিয়ান লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠান আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত ২০ জুলাই ইস্তাম্বুলে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে, হেলালী পিছন থেকে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিবাদকারীদের ছবি তুলে তাদের নাম পরিচয় সংগ্রহ করে বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যখন প্রবাসীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, তখন গত দুই সপ্তাহ হেলালী পুরোপুরি নিশ্চুপ ছিল। মূলত সে মনে করেছিল আওয়ামী সরকার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ওমর ফারুক হেলালী এখন ভোল পাল্টিয়ে তুরস্কে জামাত নেতাদের সাথে বিজয় মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজয়ের স্ট্যাটাস দিয়েছে যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা ইস্তাম্বুলের স্থানীয় সচেতন দেশপ্রেমী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসী কমিউনিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী জানিয়েছেন, সাধারণ ছাত্র জনতা ও দেশের মানুষের সাথে তার এই দ্বিমুখী আচরণ তুরস্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তুরস্কের জামাত কর্মীরাও এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। জামাতের কর্মীরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাকে জামাতের কোনো দায়িত্বে না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তুরস্কের জামাতের আমিরের কাছে। তিনি আরও জানান, কমিউনিটির পক্ষ থেকে ওমর ফারুক হেলালির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই ভুক্তভোগী।
















