বিচার দাবি শিক্ষকদের
রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অটিস্টিক বিদ্যলেয়ে প্রধান শিক্ষক তাহমিনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ‘রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অটিস্টিক’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ তাহমিনা পারভীনের বিরুদ্ধে মারমুখী অসদাচরণসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক ভূঁইয়া ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মোঃ ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ ‘রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অটিস্টিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। গত ৫ মে ২০২৫ দুপুরে শিক্ষকদের মিটিংয়ে তার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ তাহমিনা পারভীন অসদাচরণ করেন।

ঘটনার বিবরণে ওমর ফারুক ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, গত ৫ মে মিটিং শেষে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালের বকেয়া বেতন ভাতার চাহিদা তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহমিনা পারভীন উপস্থিত সব শিক্ষকের সামনে তাকে (ওমর ফারুক ভূঁইয়া) কষে চড় মারবেন উল্লেখ করে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকগণ প্রতিবাদ করলে তিনি অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শিক্ষকদের প্রতিবাদমুখর অবস্থার ভিডিও ধারণে করে ব্ল্যাকমেইল করার অপচেষ্টা করেন। ইতোপূর্বে তিনি আরও অনেকবার এ ধরনের আচরণ করেছেন। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না দেওয়ার কারণে তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্মানহানি ঘটে। এ ধরনের অসদাচরণের সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরো অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় জেলা প্রশাসকের কাছে দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে। ওমর ফারুক ভূঁইয়া গত ৫ মে সংগঠিত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে মোসাম্মৎ তাহমীনা পারভীনের সঠিক বিচার প্রার্থনা করেছেন।

ঘটনা সম্পর্কে সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, বয়সে জুনিয়র হলেও জ্যেষ্ঠতা ও ন্যায্যতা লঙ্ঘন করে মোসাম্মৎ তাহমীনা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যা বিধি মোতাবেক হয়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর মোসাম্মৎ তাহমীনা পারভীন সব সময়ই বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছেন। কোনো ধরণের উসকানি ছাড়াই তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ অব্যাহত রেখেছেন। গত ৫ মে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহমীনা পারভীন সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক ভূঁইয়া’র সঙ্গে অশোভন এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক আচরণ করেন। একজন শিক্ষকের কাছে এটা মোটেও কাম্য নয়। ঘটনার সময় উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা, সিনিয়র শিক্ষক সুরাইয়া বেগম, শিক্ষক ওয়াহিদা শিরিন, সালেহা আক্তার, মোসাম্মৎ ফারহানা সুলতানা প্রায় একই কথা বলেন। তারাই সবাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে অতিষ্ঠ, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মোঃ ওমর ফারুক ভূঁইয়া সিনিয়র শিক্ষক, কিন্তু তাকে সহ্যই করতে পারেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষককে কীভাবে কষে চড় মারার মতো ঔদ্বত্ব দেখাতে পারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা আমাদের বোধগম্য নয়। ‘রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অটিস্টিক’ বিদ্যালয়ের শিক্ষা সহায়ক শফিকুল ইসলাম, সালমা হোসেন, মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষা সহকর্মী বান্ধব নয়, প্রভিডেন্টফান্ডের টাকা নিতে চাইলে তিনি আমাদের কোনো সহযোগিতা করেন না। সবার সঙ্গেই খারাপ ব্যবহান করেন। সিনিয়র শিক্ষককে চড় মারতে চাওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করেননি ‘রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অটিস্টিক’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ তাহমিনা পারভীন। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি কেমন হলে চড় মরার কথা আসে? তিনি দাবি করেন, শিক্ষকরা তাকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ। জোর করে বা বিধি লঙ্ঘন করে চেয়ারে বসেননি তিনি। কর্তৃপক্ষ যোগ্য মনে করেছে বলেই তাকে দায়িত্বে রেখেছে। কর্তৃপক্ষ যতদিন চাইবে ততদিন দায়িত্ব পালন করবেন, না চাইলে সরে দাঁড়াবেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ৮ মে বিকেলে বলেন, দু’দিন আগে দায়িত্ব পেয়েছেন। এখনও সব কিছু সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেননি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেন জানান।

Facebook Comments Box