ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগর এলাকার প্রান্তিক শিশু কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বস্তিসহ নিম্ম ও নিম্ব-মধ্যবিত্ত এলাকায় খেলার মাঠের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কার্যকর পরিকল্পনা, যথাযথ নকশা প্রণয়ন করবার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে ও স্বল্প সময়েই এই সকল এলাকার উন্মুক্ত পরিসর ও খেলার মাঠের টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব তবে এই উন্নয়ন ধরে রাখবার জন্য গণ পরিসর ও খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নীতিমালা ও স্থানীয় জনগণের আন্তরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার রাজধানীর মিরপুরে বাউনিয়াবাধ এ ব্লকের খেলার মাঠে সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে, বাউনিয়াবাঁধ এ ব্লক এলাকার শিশুদের খেলার মাঠ এবং কমিউনিটি সেন্টার উন্নয়ন কার্যক্রম শেষে স্থানীয় শিশু কিশোর ও এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্তকরণ এবং মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)’র সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাশেম, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এর শীমতানা শামীম, পরিচালক, কমিউনিকেশন, এডভোকেসি, ক্যাম্পেইন এবং মিডিয়া; সায়মন রহমান, ম্যানেজার, আরবান রেজিলিয়েন্স; ওবাইদুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার, আরবান রেজিলিয়েন্স; সিপ এর প্রকল্প কর্মকর্তা মুনির ইসলাম, গ্রিন সেভার্স এর প্রতিষ্ঠাতা আহসান প্রমূখ।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী খেলার মাঠ উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগী সংস্থা ও সংগঠনসমূহের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই মাঠ উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলল এই খেলার মাঠ ও গণপরিসর এলাকার শিশু-কিশোরদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিসীম ভ‚মিকা রাখবে পাড়া মহল্লায় প্রান্তিক কমিউনিটির বিনোদন সুবিধাদির দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবার পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টারে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবার সুযোগ তৈরি হল। তবে এই সুবিধাদির কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহায়তা চান এলাকাবাসী।
এসময় অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, এই মাঠের উন্নয়ন নকশায় ব্যয়বহুল ও ভারী উপাদান ব্যবহার না করায় মাঠটি স্বল্প ব্যয়ে উন্নয়ন করা সম্ভবপর হয়েছে এবং এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এই মাঠে যেন আগের মতই সাধারণ ছেলেমেয়েরা অবাধে খেলতে পারে, এলাকাবাসীকে সেটি নিশ্চিত করবার অনুরোধ জানান তিনি । অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার বিভিন্ন পার্ক খেলার মাঠ উন্নয়নে দেখা যায় অপ্রয়োজনীয় অনেক ডিজাইন উপাদান যোগ করে অনেক ব্যয়বহুল নকশা প্রণয়ন করা হয় এই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর পার্ক-খেলার মাঠ বন্ধ করে রাখা হয় আবার উন্নয়ন শেষে খেলার মাঠে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার অনেক সংকুচিত হয়ে যায় এই ধারার বিপরীতে স্বল্প ব্যয়ে ও মাসখানেক সময়ের মধ্যে আটপৌরে নকশায় করা বাউনিয়াবাধ খেলার মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
















