কক্সবাজারের টেকনাফের অপহরণ এবং মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মুহিত কামাল ও সাইফুলসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) কক্সবাজার র্যাব-১৫ এ তথ্য জানিয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে জেলার টেকনাফ থানায় পাঁচটি, উখিয়া থানায় একটি এবং ঈদগাঁও থানায় একটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার ছয় জন হলো– টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া এলাকার মৃত সিরাজ মেম্বারের ছেলে মুহিত কামাল (৩৪), একই ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার হাফেজুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮), নতুন পল্লান পাড়া এলাকার কাদির হোসেনের ছেলে রোহিঙ্গা হাবিকুল্লাহ ওরফে লালু (৩০), রামুর দাড়িয়ারদীঘি এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে আব্বাস মিয়া ওরফে জাহাঙ্গীর (৪০), রামুর থৈয়ংগা কাটা এলাকার আব্দুল আলমের ছেলে সৈয়দুল আলম (২৪), উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের বি ব্লকের বাসিন্দার আব্দুস সালামের ছেলে তাহের হোসেন (২৫)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের একটি অপহরণ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে এনজিও এবং কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিরীহ লোকদের টেকনাফে নিয়ে এসে জিম্মি করে। পরে ফোন দিয়ে ভিকটিমের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে থাকে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৩ জুলাই র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন জানতে পারে গত ২০ জুলাই তৌহিদ নামে এক যুবক ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালি এলাকার হামিদ হোসেন ও নিজামুদ্দিনকে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। পরে মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করে ইমো নম্বর থেকে ফোন করে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় ২৩ জুলাই একটি অপহরণ মামলা হয় এবং পুলিশ তৌহিদকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যে র্যাব মূল চক্রকে গ্রেফতারের কাজ করে। গত ৭ আগস্ট সকালে র্যাব-১৫-এর একটি দল অপহরণ চক্রের চকরিয়া-রামু-ঈদগাঁও এলাকার এজেন্ট সাইদুল আমিন এবং আব্বাসকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই চক্রের মূল হোতা মুহিত কামাল ও সাইফুল ইসলামসহ আরও দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘অপহরণকারীরা জানায়, কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিকটিমদের কাজ দেওয়ার কথা বলে টেকনাফে এনে দুর্গম পাহাড়ে গুদামঘরে বন্দি করে রাখে। ভিকটিমের সংখ্যা ২০-২৫ জন হলে তাদের মাছধরার বোটে সেন্টমার্টিন নিয়ে যায়। সেখান থেকে মিয়ানমারের অপহরণ চক্রের সদস্যরা সে দেশে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মিয়ানমারের নম্বরে রেজিস্ট্রেশন করা ইমো নম্বর দিয়ে কল করে ভিকটিমের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।’
তিনি জানান, টেকনাফ সদর নতুন পল্লান পাড়া, লম্বরি এবং লেংগুর বিল এলাকার প্রত্যেক পরিবার এই অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের গাড়ি বা সদস্যকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেওয়ার জন্য চক্রের মূল হোতারা এলাকার লোকদের টাকা দেয়।
গ্রেফতার অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
















