আয়না কে বানাইলরে এমন সুন্দর নমুনায়
যার মাঝেতে আল্লা নবী চাইলে দেখা যায়।
(সুফি ফকির ইয়াছিন শাহ)
এবারের ফেব্রুয়ারীর অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে দ্বিতীয় গবেষণা গ্রন্থ ‘সুফি ফকির ইয়াছিন শাহ জীবন ও সংগীত’। পাওয়া যাবে কাব্যকথা স্টল নং ৩১৮ (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে)।
পুঁথিসম্রাট জালাল খান ইউসুফী এ বই সম্পর্কে ফ্ল্যাপে লিখেন, সুফি ফকির ইয়াছিন শাহ সারা জীবন সাধন , ভজনে, গানে,গজলে, ধ্যানে ও জ্ঞানে মানব প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। প্রেমসাধনায় তিনি কখনও শ্রেণি সংগ্রামী, কখনও মানবতাবাদী আর কখনও আধ্যাত্মবাদী। তবে এই মানবতাবাদ জাগতিক অধুনা উত্তর আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার মানবতাবাদ নয়। স্রস্টার প্রতি অবিচল আস্থা, নিবেদন ও সৃষ্টির নিবিড় সম্পর্কের কথাই ভাবের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। আত্মার উন্নতি হলে মানুষ অজেয় হয়,অমর হয়। ইয়াছিন শাহের সংগীত মানব সত্যের কাছেই সমর্পিত। তার অসংখ্য গান এখনও চিত্তে আন্দোলিত করে। জাগরণ ঘটায়। আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মার উন্নতির দ্বারাই মানুষ ক্ষুদ্রত্ব অতিক্রম করে স্রস্টার নিকটবর্তী হয় এবং বিরাট শক্তির অধিকারী হয় এটিই মরমিবাদ। সুফি ফকির ইয়াছিন শাহ আমাদের সকল পিছুটান হীনমন্যতা বোধের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদি কন্ঠস্বর। অষ্টাদশ শতকের শেষপাদে জন্ম নেয়া এই সাধকের জীবনকালের সময়সীমার ভেতর শিক্ষা, সংসার ও ভাবসংগীত রচনায় আত্মমগ্ন থাকেন। এছাড়া অতীন্দ্রিয় সত্ত্বা. মানবাত্মা তথা দেহতত্ত্বের ভেদ সম্পর্কে রচনা করেন অসংখ্য গান। বাংলার ভাবচর্চার স্বরূপ বুঝতে এই অমূল্য গ্রন্থ পাঠে সহায়ক হবে।
আশাকরি এ বইটি পড়ে নিরাশ হবেননা। সুফিবাদ ও মরমিবাদ সম্পর্কে শুরুতেই রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা। বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায় ভুলে যাওয়া একসময়ে খুব জনপ্রিয় সুফি সাধক ইয়াছিন শাহ সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে এই বইটি। মানবতাবাদি এই সাধক ভালোবেসে গেছেন মানুষকে। আমরা ভুলে গেছি ওনাকে। আফসোস সেটাই।
















