কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে এবার চাল উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হয়েছে। ফলে এ বছর চাল আমাদানি করতে হবে না।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বিএজেএফ জাতীয় কৃষি সম্মেলনের প্রথম দিনে ‘বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর: কাজী বদরুদ্দোজার আবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ)।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সামনে আশ্বিন-কার্তিক মাস। আগে এ সময় চালের দাম বেড়ে যেত। এবার এই সময় চালের দাম কমের দিকে। এ বছর আমদানি করতে হবে না। উৎপাদনও এবার যথেষ্ট ভালো। মিলাররা সরকারকে চাল দিতে চাচ্ছে। বিজ্ঞানভিত্তিক আর যন্ত্রনির্ভর কৃষির জন্যই এত উন্নতি।
তিনি জানান, বিএনপির আমলে মানুষ না খেয়ে মরতো। ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় না খেয়ে মানুষ মারা গেছে। তখন ভিক্ষাবৃত্তির মনোভাব নিয়ে দেশ চালাতো বিএনপি। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর শুরু করেছিলেন কাজী বদরুদ্দোজা। তিনি এ দেশের সনাতন কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক করে গড়ে তুলেছিলেন। যার সুফল এখন আমরা ভোগ করছি। তবে এ রূপান্তরের দ্বিতীয় অংশটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ধান রোপণ থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত এখন যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে।
এ সময় বিএজেএফের সভাপতি গোলাম ইফতেখার মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, এসিআই এগ্রিবিজনেসেসের প্রেসিডেন্ট ড. ফা হ আনসারী, এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল প্রমুখ।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. রফিকুল আমিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যাবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম।
এদিকে দুই দিনব্যাপী বিএজেএফ জাতীয় কৃষি সম্মেলনে বিএজেএফের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় দিন মিলে দেশের ৬০ জন কৃষি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দিন সোমবার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্যের রপ্তানি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় টেকসই কৃষি, বীজ ও ফল উৎপাদন বিষয়ে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
















