নিজেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র দাবি করে এবার নগর ভবনে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার ইশরাকের অনুসারীরা নগর ভবনে একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও দুপুর ১টার দিকে নগর ভবনে প্রবেশ করেন ইশরাক হোসেন। এরপর তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের পরই নগর ভবন প্রাঙ্গণে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরআগে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও ওয়ার্ড সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইশরাক হোসেন।
এদিকে, ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে বুধবার অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে সংস্থাটির কর্মচারীরা। এর সঙ্গে ‘ঢাকাবাসী’র ব্যানারে নগর ভবনে একত্রিত হয় ইশরাকের অনুসারীরা।
গত ১৫ জুন নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে একটি সভা করেন ইশরাক হোসেন। নগর ভবনে এটিই ছিল তার প্রথম সভা। সেই সভার ব্যানারে ইশরাক হোসেনের নামের সঙ্গে ‘মাননীয় মেয়র’ লেখা ছিল। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন।
মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধনের আগে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের আন্দোলন চলমান থাকলেও নাগরিক জরুরি সেবাগুলোও আমাদের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে। আমরা চাই কোনোভাবেই যেন নাগরিক দুর্ভোগ না হয়। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম আসছে, ফলে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আমরা এই কার্যক্রম উদ্বোধন করছি।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, এই ধরনের মূর্খ উপদেষ্টা বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ কখনো দেখেনি। তিনি ক্রমাগত মিথ্যাচার করেছে আমাদের এই আন্দোলন নিয়ে। তিনি বারবার বলেছেন, এখানে আইনি জটিলতা রয়েছে, সাবজুডিস ম্যাটার রয়েছে এবং অন্যান্য কথা বলেছেন। অথচ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ থেকে এই বিষয়টি বহু আগেই মীমাংসা হয়ে গেছে। তারপরেও যদি বলেন এখানে আইনি জটিলতা রয়েছে, তাহলে আমি বলব যে এই ধরনের মূর্খ উপদেষ্টা বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ কখনো দেখেনি।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি বর্তমান সরকারের কানে দেশের সবার দাবি পৌঁছায়, কিন্তু আমাদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি বাসীর দাবি কেন জানি তাদের কানে পৌঁছায় না। এই ব্যাপারে তারা দেখেও দেখছে না, শুনেও শুনছে না। আমরা বলতে চাই, এই ধরনের নব্য স্বৈরাচারী মনোভাব যে বর্তমান সরকার দেখিয়েছে, এটা আসলে আমাদের সবাইকে হতবাক করেছে। কীভাবে আমাদের এই আন্দোলনকে দমানো যায়, বিতর্কিত করা যায় এবং জনগণের সামনে ভুলভাবে আমাদের কার্যক্রমকে উপস্থাপন করা যায়, সেই চেষ্টায় তারা লিপ্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলনে নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্টের বেঞ্চ।
















