এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে হজ প্যাকেজ-২০২৩ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান জানিয়েছেন।
মিনার তাঁবুর সি-ক্যাটাগরির মূল্য অনুসারে সরকারি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিনার তাঁবুর অবস্থান সংক্রান্ত ক্যাটাগরি গ্রহণের ভিত্তিতে বেসরকারি এজেন্সিগুলো সরকারি প্যাকেজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্ব-স্ব হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। তাঁবুর অবস্থান ছাড়া অন্য সুযোগ-সুবিধা সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজের মতো নিশ্চিত করতে হবে।
এ বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে গমনকারী শতভাগ হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ‘রুট টু মক্কা চুক্তি’ অনুযায়ী ওই বিমানবন্দরেই অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর থেকে এবার হজ প্যাকেজের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছর রিয়ালের মূল্য ছিল ২১ টাকা, এখন সেই রিয়ালের মূল্য ৩০ টাকা। এক লাখ টাকার বেশি এখানেই চলে আসে। আনুষঙ্গিক ব্যয় খুব একটা বাড়েনি। বিভিন্ন খাতে সমন্বয় করে এ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার বিমানভাড়া কত জানতে চাইলে ফরিদুল খান বলেন, এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। বিমানভাড়া কেন বেড়েছে তা আপনাদের বিবেচনা করা উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানভাড়া বেড়েছে। বিমানভাড়া নিয়ে আমরা বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিনদিন বসেছি। বর্তমান সময় আমাদের অনুক‚লে না থাকার কারণে বিমানভাড়া বাড়াতে হয়েছে। গত বছর হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ছিল এক লাখ ৪০ হাজার।
আগের মতো তিনটি বিমান সংস্থা (বিমান বাংলাদেশ, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ও নাস এয়ার) এবারও হজযাত্রীদের পরিবহন করবে বলেও জানান ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এবিষয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার খরচ বিষয়ে হাব সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, তারা একটা বা দুইটা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেন। সরকারি খরচের বেশি তারা প্যাকেজ ঘোষণা করবে না। প্লেন ভাড়া নিয়ে হাব সভাপতি বলেন, যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও কম হওয়া উচিত ছিল, আরও সহনীয় পর্যায়ে থাকা উচিত ছিল। আমি মনে করি হজ যাত্রীদের প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করার এখতিয়ার যদি শুধু উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে, তারা বাণিজ্যিক সংগঠন, তারা নিজেরাই যদি নিজেদের ভাড়া নির্ধারণ করে- তাহলে এটা ন্যায় হলো না। টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করলে আরও কম হতো। আমি প্রস্তাব করেছি যে এবছর ডেডিকেটেড ফ্লাইট ছাড়া হজযাত্রী বহন করতে পারবে না। তা সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে গত ৯ জানুয়ারি রাজকীয় সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক হজ চুক্তি ২০২৩ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন। এ বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে গমনকারী শতভাগ হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ‘মক্কা রোড চুক্তি’ অনুযায়ী এ বিমানবন্দরেই অনুষ্ঠিত হবে।
















