করোনা প্রতিরোধে টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার পর মানুষের শরীরে পাঁচ গুণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। টিকা গ্রহণকারী ২২৩ জনের ওপর চালানো এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ উপাচার্য ও গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, গবেষণায় দুই ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হবার ১ মাস পর, দুই ডোজ টিকা গ্রহণের ৬ মাস পর এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণের ১ মাস পর শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি এন্টিবডি এর মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ২২৩ জন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হবার ১ মাসপর এবং তন্মধ্যে ৩০ জনের দুই ডোজ টিকা গ্রহণের ৬ মাস পর ও বুস্টার ডোজ গ্রহণের ১ মাস পর এন্টিবডি এর মাত্রা পরিমাপ করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সাথে জড়িত ছিলেন। অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী পূর্ব থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানীসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন, তবে এ ধরণের রোগের কারণে এন্টিবডি তৈরিতে কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী টিকা গ্রহণের পরে মৃদু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এর কথা জানিয়েছিলেন, তবে রক্ত জমাট বাধা বা অন্য কোন জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গবেষণাকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি।
টিকা গ্রহণের পর প্রথম ধাপে ২২৩ জনের মাঝে ৯৮ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যারা পূর্বেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের শরীরে তুলনামূলক বেশি এন্টিবডি পাওয়া গিয়েছিল। টিকা গ্রহণের ৬ মাস অতিবাহিত হবার পরে দেখা যায়, অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এন্টিবডি এর পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন টিকা গ্রহীতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশের এন্টিবডির মাত্রা হ্রাস পেয়েছে, গড় এন্টি বডির মাত্রা ৬৭৯২ অট/সখ থেকে ৩৯৬৩ অট/সখ তে নেমে এসেছে। এ সময় ২ জন টিকা গ্রহীতার দেহে পর্যাপ্ত এন্টিবডি পাওয়া যায়নি। বুস্টার গ্রহণের পরে শতভাগ অংশগ্রহণকারীদের দেহে ই এন্টিবডি পাওয়া যায় এবং প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই এন্টিবডির মাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে গড় এন্টিবডির মাত্রা ২০৮৭৮ অট/সখ এ এসে দাড়ায়। রক্তের প্যারামিটার গুলোতে (হিমোগেøাবিন, প্লেটলেটসহঅন্যান্য) উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।
বিএসএমএমইউ উপাচার্য আরও জানান, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই স্বাস্থ্য সেবাদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানিসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তবে এ ধরনের রোগের কারণে অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী টিকা নেওয়ার পর মৃদু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু রক্ত জমাট বাধা বা অন্য কোনো জটিল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গবেষণাকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটির বেশি মানুষ টাকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন সাড়ে সাত কোটির বেশি মানুষ। এবং ৩০ লাখের বেশি মানুষ টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। এই গবেষণা কার্যক্রমটিতে হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ সালাহউদ্দীন শাহ সহ-গবেষক হিসেবে এই গবেষণা প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন সম্পাদনা: সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম ইয়ার ই মাহাবুব ও সুব্রত বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। #####
সবারবাংলা/এসআই














