চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং দখল বাণিজ্য সহজ ও নির্বিঘ্ন করতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দলটির দাবি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার জাতীয় অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। দেশে চলমান নানা বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পারওয়ার এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। তার দাবি, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সংকীর্ণ দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পর বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি সাম্প্রতিক নিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পারওয়ার। তার দাবি, অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় ঘোষিত স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে সংবিধানের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা। একই সঙ্গে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যাকান্ড ও অপরাধ বৃদ্ধি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও সরকারি সম্পদের বণ্টনেও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠছে, যা সুশাসন ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
















