রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার কাগজপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্যি। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জমজম, সততা ও সান) থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?’
সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজ দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থে রোগীদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাইরের লোক এসে নমুনা নিয়ে যাচ্ছে। রোগীরা কেন বাইরে পরীক্ষা করাবেন সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপরও যদি বাইরের লোক এসে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের একাধিক তলায় ছোটাছুটি করতে হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
এক রোগীর স্বজন বলেন, লিফট নিয়মিত চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের এক তলা থেকে আরেক তলায় যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে চলছে, কোন কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং কোথা থেকে রিপোর্ট এসেছে এসব বিষয়ে খোঁজ নেন।
এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করার কথাও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
















