স্টাফ রিপোর্টার :
বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা ও খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই এসেছিলো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘারে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিলো। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিং-এর পর অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিলো হতাশা। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা তার রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিলো। মূলত, জুলাই এসেছিলো ঘুর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মত উড়িয়ে দিয়েছিলো। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১০, ফলপট্টি সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান,কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা । বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শান্ত তালুকদার, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদের পিতা মোশাররফ হোসেন। উপস্থিত ছিলেনকেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, জিয়াউল হাসান প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার,জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাই সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং তারা যাতে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। জুলাই শহীদদের দিতে হবে জাতীয় বীরের মর্যাদা। তাদের পরিবারে সদস্যদের প্রতিও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কারণ, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি জুলাই শহীদদের নামে মিরপুর সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। যাতে তাদের স্বজনরা তাদের জন্য গর্ববোধ করতে পারেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, গণরায়কে কোন ভাবেই পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নেই। তাই জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ২ টি শপথ গ্রহণের কথা। একটি সংসদ সদস্য হিসাবে, আর অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য। এ পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত। কিন্তু সরকার নানা ছলছুতায় এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তাই জনগণ সরকারকে গণরায় পাশ কাটানোর সুযোগ দেবে না বরং যেকোন মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করবে। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। অন্যথায় সরকারকে এজন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
















