গাজা দখলে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৭০টির বেশি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনায় ১১৩ মিলিয়ন শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এই অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরকারি একটি স্টিয়ারিং কমিটির সভায় গত মে মাসে গৃহীত ২৫০ মিলিয়ন শেকেলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই তহবিল অনুমোদন করা হয়।

কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বসতি স্থাপনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি ১৫৭ মিলিয়ন শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ৫২ মিলিয়ন ডলার পাবে।

পাশাপাশি আরও ১৪২ মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতিও অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই দিনে ইসরায়েলের পার্লামেন্টের অর্থ কমিটি পৃথকভাবে বসতি স্থাপনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ জানিয়েছেন, এই অর্থ দিয়ে নতুন দর্শনার্থী কেন্দ্র ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘জিয়োনিস্ট পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের লক্ষ্যে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানকে ইহুদি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে।

যদিও কোন কোন স্থান এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের দাবি, এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বেথলেহেমের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক সলোমনস পুলস এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ১০৪টি বসতি এবং ১৬০টি আউটপোস্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ বলে বিবেচিত।

এদিকে চলতি বছর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারী এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ১১ হাজারের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতেও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

Facebook Comments Box