ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোন অনুরাগ-বিরাগ নেই

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের কোন অনুরাগ কিংবা বিরাগ নেই বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, গ্রামীণ কল্যাণের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।গ্রামীণ কল্যাণের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় এবং এ বিষয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা আদালতের ব্যাপার এবং একটু মিসপারসেপশন ছিল—এটা এখন ডিটেইল অনেকের সামনে এসেছে যে, এই কর মওকুফের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল। সেই রায়টা কেন তখন কার্যকর হয় নাই, ইন্টেরিমের সময় ছিল এখন তাদের দিতে বলা হয়েছে। এ রায়ে ‘সরকারের কিছু করার নেই’ বলেও জানান উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আদালতে আছে, হাইকোর্টের রায় হয়েছে। তাদেরকে ওই করটা দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই করটা দিতে চান নাই। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই। মামলা তার গতিতে চলবে’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা সাস্টেইন করতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে। সরকারের কোনোরকম কোনো ইনভলভমেন্ট (সংশ্লিষ্টতা) নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ড. ইউনূস বা আর কারও প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ বা বিরাগের প্রশ্ন নেই। বিষয়টি যেহেতু বিচার বিভাগের, তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর সরকারের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপারে আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রে দেখবেন, বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা সেটা তারা করছেন। উল্লেখ্য, গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে। এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই অর্থ পাওনা রয়েছে।

এর আগে ২০০৪ সালে তহবিলের একটি অংশ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ কল্যাণ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত আরেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ টেলিকমকে প্রায় ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়। পরবর্তীতে এনবিআরের কর দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ আলাদাভাবে দুটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। ওই রায়ে এনবিআরের কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল আবেদন করলে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন আদালত। পরে শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিটই খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। সেখানে কয়েক দফা শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে রায় ঘোষণা করা হয়। নতুন রায়ে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত করের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের কোনো পক্ষপাত বা হস্তক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

Facebook Comments Box