তামাকজাত পণ্য আমদানী বন্ধ করতে হবে

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, তামাকজাত পণ্য আমদানী বন্ধ করতে হবে। পরিবার, সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তামাক ব্যবহারের ফলে। এ দেশ থেকে তামাক উৎপাদন, বাজারজাতকরণ বা তামাকজাতপন্য আমদানী বন্ধ করতে হবে। যা স্বাস্থেও জন্য ক্ষতিকর তা পরিহার করতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি পাসের জোরালো দাবি জানাচ্ছি। আইনটি দ্রুত পাস করা গেলে, প্রানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করি।’ আইনটি যাতে সংসদে অবিলম্বে পাস হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অনেক টাকা যায়। সেটা সেইফ করতে পারলে আরো উন্নয়ন করা সম্ভব। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে ভালো থাকেন সেজন্য দেশকে ধুমপান মুক্ত করতে হবে।
তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের কারণে প্রতিদিন বাংলাদেশে ৪৪২ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তাই চলতি সংসদেই সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন নারী মৈত্রী।

এ সময় তামাকবিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য শবনম জাহান শিলা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মানুষ কর্মক্ষেত্র, রেস্তোরাঁয় এবং গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে পাবলিক প্লেসে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ‘ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন’ বাতিলের দাবি জানান। এ তিনি আরো বলেন, ধুমপানমুক্ত করতে হলে যার যার জায়গা থেকে উদ্দ্যোগ গ্রহন সকরতে হবে। তামাকের চাষ বন্ধ করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তবেই এ দেশ ধুমপান মুক্ত হবে।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, তামাকবিরোধী সংসদীয় নারী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় মমানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার প্রমুখ।

Facebook Comments Box