সফিকুল ইসলাম :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর আগেই ‘নৌকা টার্গেট‘ দলীয় মনোনয়ন পেতে বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ব্যানারের মাধ্যমে যোগ দিচ্ছেন আলোচনা ও মতবিনিময় সভায়। এককথায় বলতে গেলে নিজেদের ইমেজ বাড়াতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন একঝাঁক পুরাতন ও নতুন মুখ। নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়াও রয়েছে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা।
তবে গত একাদশ নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়িয়েও যারা নৌকার মনোনয়ন পাননি, এবারও আগে-ভাগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় নিয়মিত যাতায়তের পাশাপাশি খোজঁখবর নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। শুধু তাই নয়, এলাকার কেউ অসুস্থ কিংবা বিপদে পড়লে তাদের পাশে দাড়িঁয়ে মানবতার পরিচয় দিচ্ছেন অনেকে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার সময় এবং পরে নিজ নিজ সংসদীয় আসনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতার নজর এখন এলাকার দিকে। এসব নেতা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় যাওয়া-আসা করছেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের জনসংযোগ বেড়েছে। একইসাথে তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়মিত এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে। সরকারি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এইসব নেতাদের অনেকে এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন।
মনোনয়নের দৌড়ে পুরনো প্রার্থীদের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাও। ক্ষুদ রাজধানীতে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদেরমধ্যে রয়েছেন- ঢাকা-৪ আসনের সাবেক ছাত্রনেতা ড. মো. আওলাদ হোসেন ও ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. কামরুল রিপন। ড. মো. আওলাদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের পর ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক ইউনিটে গনসংযোগ কর্মসুচি শুরু করেছেন। বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে গনসংযোগ কর্মসুচি করছেন তিনি। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই রোববার সন্ধ্যা ৭ টায় পশ্চিম জুড়াইন ৪ নং ইউনিট (পাইপ রাস্তা) আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: ফিরোজ জামানের বাসভবন সংলগ্ন খোলা চত্বরে ৫৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত মুফতির সভাপতিত্বে ৫৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকায় কর্মীসভা ও গনসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ড. মোঃ আওলাদ হোসেন। গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ডেমরায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন মো. কামরুল রিপন এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা ও গণ সংযোগ করেন। রোববার বিকেলে স্টাফ কোয়ার্টার, আমুলিয়া, ও মেন্দিপুর এলাকায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ করেন। এদিন তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা.রোকসানা আক্তারকে দেখতে তার বাসায় আসেন ও তার অসুস্থ অবস্থায় জন্য সমবেদনা জানান। পরবর্তীতে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিফাত সাদেকীন চপলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে যারা গণসংযোগ করছেন তাদের মধ্যে-কমিল্লা-১ (দাউদকান্দী-মেঘনা) আসনে এবার নৌকার কাণ্ডারী হিসেবে এলাকাবাসির মন জয় করেছেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর। এলাকাবাসি আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় এই প্রার্থীকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। ফরিদপুর-১ আসন (বোয়ালমারী- মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জনপ্রিয় ছাত্রনেতা লিয়াকত শিকদার। তিনি নীরবে দীর্ঘ দিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বেশ জনপ্রিয় তিনি এলাকায়। মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির। তিনি গত নির্বাচনেও এই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ । বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড আর বিচক্ষণ নেতৃত্বগুণে ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা বাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন দুঃসময়ের এই নেতা।। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫) আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাগেরহাট-৪ আসনে আলোচিত হয়ে উঠেছেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ। ঢাকা -৬ (সূত্রাপুর, ওয়ারী-গেন্ডারীয়া ও কোতুয়ালী) আসনে মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করীম রেজা। তিনি
দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনে তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।
নৌকার মনোনয়ন পেতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে গণসংযোগ শুরু করছেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য শহীদুল্লাহ্ মুহাম্মদ শাহ নূর। তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এলাকাবাসির কথা রাখতে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দীয়া) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন আলোচিত পুলিশ অফিসার (সাবেক অতিরিক্ত ডি আই জি বাংলাদেশ) বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাহার আকন্দ। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট হত্যা মামলা,২১ আগস্ট ও জেলহত্যাসহ অসংখ্য আলোচিত মামলা সাহসীকতার সাথে তদন্ত করেন। তিনি মটখলা এবং বুরুদিয়া, আচমিতা, মসুয়া,জালালপুর,সহস্রাম ধুলদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরছেন। এছাড়াও দেশে প্রতিটি সংসদীয় আসনে দ্বাদশ নির্বাচনে ‘নৌকা প্রতীক’ মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও বীরমক্তিযোদ্ধাদের দাবি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে (সাবেক অতিরিক্ত ডি আই জি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাহার আকন্দ দেখতে চান।
















