সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন সুইড রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের জায়গা সুইড বাংলাদেশের তথাকথিত মেন্টরের নেতৃত্বে জোরপূর্বক দখল ও মহান সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পতিকৃত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের জায়গায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম ও স্কুলটিকে রক্ষায় মানববন্ধন করেছে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারী ও অভিভাবকবৃন্দ। বুধবার ৪ ইস্কাটন গার্ডেন রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা সুইড বাংলাাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অর্ন্তগত ৭৪টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের একটি সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে, বর্তমানে যেখানে প্রতিটি সেক্টরে প্রতিটি ক্ষেত্র দখলমুক্ত হচ্ছে, সেখানে সুইড বাংলাদেশের কয়েকজন ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দুই নম্বরী চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন ও অর্থলোপাটের জন্য রমনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে।

যেখানে সবার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চিন্তাভাবনা করছেন, সেখানে মেন্টর জওয়াহেরুল ইসলাম মামুনের নেতৃত্বে সুইড বাংলাদেশের কয়েকজন ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নের জন্য ও অর্থলোপাটের উদ্দেশ্যে রমনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেনী কক্ষ জোরপূর্বক দখল করে ডেকোরেটর ভাড়া দিয়েছে অভিযোগ করে মানবন্ধনে বলা হয়, শিক্ষা পরিবেশে ভাতের হোটেল বানিয়েছে। সুইড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের অর্থলিপ্সু কর্মকর্তারা বরাবরই এই কাজটি করে এসেছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের পুরো জায়গা দখল করা। কারণ ’সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’-এর অনুচ্ছেদ (২) এর উপ অনুচ্ছেদ(৫) এর নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রতিটি বিদ্যালয়ের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ঐ বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এর আগে ২০০৬ সালে ডোমিনো নামক এক ডেভেলপার কোম্পানী দিয়ে দখল করতে চেয়েছিল। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখার কর্মকর্তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের মুখে সবসময়ই পিছু হটেছে। কখনই পুরোপুরি দখল করতে পারেনি। এই জায়গাটি নরওয়ের আর্ন্তজাতিক সংস্থা ঘঋচট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিশেষ শিক্ষা ও পুর্নবাসনের জন্য দান করলেও এখন স্কুলের পাশাপাশি সুইড বাংলাদেশের ভাড়াটিয়া লাভলী ডেকোরেটর তাদের রান্নাঘর ও ভাতের হোটেল দিয়ে রেখেছে। এখানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ভাড়াটিয়ারা যা ইচ্ছা তা করে বেড়াচ্ছে। ফলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সঠিক পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছেনা। তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ঝুকিঁপূর্ণ ও বিপদজনক হয়ে পড়েছে।
অথচ ২০১৬ সালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ( এস,সি,এ নং-৩১৬৬/২০১৬, সি,পি,নং-১৬২২/২০১১, হাইকোটর্ বিভাগের রিট পিটিশন নং ৫৪৪/২০০৬ মোকদ্দমা হতে উদ্বুত) সুইড বাংলাদেশ রমনা শাখা পরিচালিত রমনা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের জমিতে কোন বানিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ও রমনা শাখাকে বর্তমান বলে প্রতীয়মান করা হয়েছে। এখানে শুধু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সহ এনডিডি শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোন কার্য়ক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দীকি। শেষোক্ত দুইজন বিচারপতি মহদোয়ও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন, স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারী ও অভিভাবকবৃন্দ।














