রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনীতির সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন। রোববার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং তার সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জোটের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরস্থ স্থানীয় একটি মিলনায়তনে জেলা/মহানগরী আমীর ও নায়েবে আমীরদের কেন্দ্রীয় শিক্ষাশিবিরে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জেলা আমীরসহ আমাদের দায়িত্বশীল ও রুকনদের সতর্ক হতে হবে। নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হবে। আল্লাহ মুসলমানদের বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা কখনো সহজ, কখনো কঠিন হয়। এটি তাঁর সুন্নাহ। মূলত মু’মিন জীবনের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য আল্লাহ তাআলা পরীক্ষায় নিক্ষেপ করেন। এ পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা তার ইচ্ছায় সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন দায়িত্বশীলকে তাঁর কাছে তুলে নিয়েছেন। শীর্ষ দায়িত্বশীলসহ নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-কুরবানির প্রেক্ষিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। আমাদের ত্যাগের তুলনায় কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও মিশরের মুসলিমরা আরও বেশি কষ্ট স্বীকার করছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী জুলুম নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর আমরা ৩ ঘণ্টার জন্যও বসতে পারিনি। তিনদিনের কাজ আমরা ৩ ঘণ্টায় করেছি। অনেক সময় কাজ অসমাপ্ত রেখে বের হয়ে যেতে হয়েছে। এজন্য বাস্তবতার আলোকে এখন নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের ঈমানকে মজবুত করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী কুরআন ও সুন্নাহর গভীরে প্রবেশ করে উম্মাহর জন্য কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনিই যে সঠিক আর অন্যরা বেঠিক- আমরা তা মনে করিনা। দ্বীনের জন্য তিনি সীমাহীন শ্রম দিয়ে গেছেন। তাঁর খুরধার লেখনির মাধ্যমে তিনি বিশ্বে ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

জনশক্তিকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের আস্থার জায়গায় কেউ আঘাত দিলে তার দিকে তাকানো হবে না। সর্বোচ্চ নৈতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম না হলেও, ন্যূনতম নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির হালাল রুজি, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, যেসকল কাজে সন্দেহ থাকবে, তা থেকে দূরে থাকা ভালো। কারণ, শয়তান আমাদের সংগঠনের দিকে ঝাপিয়ে পড়েছে। এজন্য একে অন্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ ফেতনার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশীর হক আছে আমরা তা মানি। তবে আমাদের উপর জুলুম করাকে সহ্য করবো না। একটি দেশ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। দেশকে অস্থির করার জন্য দেশটি ২৪ ঘণ্টা পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। আমাদের উত্তেজিত হওয়া যাবে না, ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

Facebook Comments Box