আমরা ১৯৭১ সালে প্রথম স্বাধীনতা অর্জনের পরে আমরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছি। মানুষের উপর মানুষের গোলামী খতম করে আল্লাহর গোলামী কায়েম করার জন্য আমাদের আবার তৃতীয় বার স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। জাতীয় সংসদে আল্লাহর আইন পাশ করতে হবে। মানুষের রচিত কোন মতবাদ দিয়ে মানুষের মুক্তি আসবে না। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লুটপাট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ইসলাম কায়েম করা ছাড়া লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হবে না। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘জুলাই’২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা এবং ‘২য় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’ বইয়ের ইংরেজি ও আরবি ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন এবং শহীদ স্মৃতি তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতির ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যারা জীবন দান করে তারা শহীদ। আল্লাহ শহীদদেরকে বিরাট পুরস্কারে ভূষিত করবেন। গত বছর জুলাই-আগস্টে যারা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছে তারা সবাই শহীদ। শহীদ ও আহতদেরকে সর্বোত্তম পুরস্কার দেয়ার জন্য আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন মেনে চলতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন তাহলেই আমরা দুনিয়া এবং আখিরাতে শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণ লাভ করবো। আল্লাহর বিধান কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সেমিনারে ‘জুলাই’২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেমিনারে আলোচ্য বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি এড. জসিম উদ্দিন সরকার, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, লে. কর্ণেল (অব.) হাসিনুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এস. এম. ফরহাদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, এড. মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এড. মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, মোঃ আব্দুর রব ও মোবারক হোসাইন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
সেমিনার যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। এতে যোগ দিয়ে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের পর স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে আওয়ামী লীগ জাতির উপর শোষণ, জুলুম, নির্যাতন, লুটপাট চালিয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে। আবার ৯০ সালের গণঅভুত্থানের পরে আরেকটি দল ক্ষমতায় এসে লুটপাট, চাঁদাবাজি করেছে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি। তাই এবার আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লুটপাট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করি। ইসলাম কায়েম করা ছাড়া লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হবে না। দেশে দুর্নীতিমুক্ত সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু করতে হবে। তা-না হলে ভোট ডাকাতি, কারচুপি, ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ হবে না। বক্তারা জামায়াতকে নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুসলমানদেরকে জঙ্গি হিসেবে অভিহিত করে তাদের উপর জুলুম করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির ও মসজিদের ইমামদেরকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
















