১৩০০ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিলো উত্তর সিটি

ঢাকা মহানগরীর ১ হাজার ৩০০ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এমন সংবর্ধনা পেয়ে অনেক আনন্দিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ ধারা অব্যাহত রাখারও আহবান জানিয়েছেন তারা। তবে আগামী ২০২৪ সালে ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আরও বড় পরিসরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। ডিএনসিসি’র সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনা. ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ডিএনসিসির সকল বিভাগীয় প্রধান ও ডিএনসিসির কাউন্সিলরবৃন্দ এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রতি দুই মাসে একদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্ধ থাকবে। প্রতি দুই মাসে শেষ সোমবার একদিন ডিএনসিসির অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বসবো। আপনাদের কথা শুনবো। আপনাদের সমস্যা সমাধান করবো। তাছাড়া যেকোন সময় আপনাদের সমস্যা হলে আমার দুয়ার সবসময় আপনাদের জন্য খোলা থাকবে। সিটি কর্পোরেশনের কোনো সেবা নিতে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের যেন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয় কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দিয়ে মেয়র আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যদি কোন সেবার জন্য উত্তর সিটিতে আসেন তাহলে তাদের কোন হ্যারেজমেন্ট করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে তাদের কথা শুনতে হবে, কাজ করে দিতে হবে। বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তাদের বাসায় গিয়ে সেবা দিয়ে আসতে হবে। তাদের কোন কাজে সময়ক্ষেপণ করা যাবে না।তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসিতে আগে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলো ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই কবরস্থানগুলো আমরা সারা জীবনের জন্য সংরক্ষণ করব। বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান ১০ বছর সংরক্ষ‌ণের প‌রিব‌র্তে আজীবন বিনামূ‌ল্যে সংরক্ষ‌ণ করতে পারবেন। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জন্য দেশ দিয়েছেন, আমরা তাদের জন্য আমাদের আওতায় থাকা সামান্য সেবাটুকু দেব। মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেনে, তাদের যদি আমরা সম্মান না দেই তাহলে কিসের সিটি কর্পোরেশন। মুক্তিযোদ্ধারা লাল সবুজের পতাকা এনে দিয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা উত্তরের সড়কগুলোর নাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করা হবে।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘আপনারা যেভাবে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন আগের কোন সরকার কিন্তু আপনাদের সেভাবে সন্মান দেয়নি। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের উপযুক্ত সন্মান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি আমাদের যা দিয়েছেন এবং যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটা কেউ দিতে পারবে না। শেখ হাসিনার হাতে যতদিন থাকবে দেশ, ততেদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। একসময় এই দেশে রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পাতাকা উড়তো। সেটি ছিল জাতি হিসেবে আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেটি বন্ধ হয়েছে।

Facebook Comments Box