অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুগান্তরকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের ডা. সারা আল সাক্কা। তুলে ধরেছেন আল-শিফা হাসপাতালের ভয়াবহ পরিস্থিতি।
দিনের আলো ফুটলেই আমরা বলি আজকের দিনটা অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত। কিন্তু পরবর্তী দিনটি আরও বেশি ভয়ংকর রূপ নিয়ে আমাদের সামনে আসে। পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। বিভীষিকাময় গাজার হাসপাতালের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সব থেকে বড় হাসপাতাল আল-শিফা। নিরাপত্তা নেই সেখানেও। হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে চলছে ইসরাইলের পাশবিক বোমা হামলা। ইতোমধ্যে আইসিইউ বিভাগ থেকে শুরু করে সার্জিক্যাল বিল্ডিংয়ে বোমা হামলা করেছে। কিন্তু বাইরে বেরোনোর সুযোগ নেই। হাসপাতাল থেকে বের হলেই পড়তে হবে ইসরাইলের গুলির থাবায়। আল-শিফায় ৩৭ দিন থেকে বন্দি রয়েছেন ডাক্তাররাও।
এখনো শতাধিক চিকিৎসক রয়েছেন। যারা পরিবারের সঙ্গে দেখাও করতে পারছেন না। হাসপাতালে যেটুকু সম্বল আছে তা দিয়েই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। হতাশা আর ভয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ডাক্তার ও উদ্বাস্তুরা।
হাসপাতালে প্রচুর রোগী ও উদ্বাস্তু রয়েছেন। কিন্তু তারা ভবনের বাইরে যেতে পারছেন না। কেউ হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তাকে গুলি করে হত্যা অথবা গ্রেফতার করা হচ্ছে। খাবার, পানি, বিদ্যুৎ, অক্সিজেন কিছুই নেই হাসপাতালে। যেটুকু খাবার আছে সেটুকুই একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন।
ডাক্তাররা মেঝেতে, প্রসারিত হলওয়েতে রোগীদের চিকিৎসা করছেন। সেখানে পর্যাপ্ত পরিচালনা বা পুনরুদ্ধার কক্ষ নেই। চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দাফনের জায়গা নেই। আল-শিফার মর্গেও আর জায়গা নেই। মূল ভবনের বাইরে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য একটি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। হিমায়িত মুরগি সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়েছে বেশকিছু মরদেহ।
একদিকে জীবিতদের উপচে পড়া ভিড়, আরেক দিকে লাশের স্তূপ। সব দিকেই হাহাকার। না পারছে কেউ বাইরে যেতে, না পারছে ভেতরে থাকতে। একেবারেই দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জীবন। ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের অবকাঠামো।
সম্প্রতি আইসিইউতে থাকা দুই নবজাতকেরও মৃত্যু হয়েছে। ভেন্টিলেটর মেশিন না থাকায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন হাসপাতালের সবাই শুধু মুক্তির অপেক্ষায়।














