প্রতিটি ওয়ার্ডেই খেলার মাঠ ও উদ্যান স্থাপন করা হবে

ছাট হোক বা বড় হোক, প্রতিটি ওয়ার্ডেই ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ ও উদ্যান স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেক জায়গা দখলমুক্ত করে ১০টি ওয়ার্ডে নতুন করে খেলার মাঠ সৃষ্টি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ডেমরা এলাকায় মেন্দিপুর খেলার মাঠ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়কালে শেখ ফজলে নূর তাপস এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ তাপস বলেন, দখলদারদের তালিকা করে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। নতুন নতুন দখলদার সৃষ্টি হয়। আমরা খালগুলো পাওয়ার সাথে সাথে প্রথম দফাতেই একটা বড় অংশ দখলমুক্ত করি। কিন্তু দেখা যায় যে, ভ‚মিদস্যরা কিন্তু থেমে থাকে না। তারা কিন্তু সুযোগের সন্ধানে থাকে। আবার দখল করার চেষ্টা করে। সেজন্য খাল উদ্ধারে আমরা দীর্ঘস্থায়ীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের চারটি খাল (শ্যামপুর, জিরানি, মান্ডা ও কালুনগর খাল) নিয়ে যে প্রকল্প দিয়েছেন আমরা তা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সোকওয়েল ও সেফটিক ট্যাংক নিয়ে করা সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে শেখ তাপস বলেন, “এটা অত্যন্ত দুরুহ। কারণ দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যেটা অপরিকল্পিতভাবে হয়ে আসছে সেটা খুব দ্রুত যে সম্পন্ন হবে তা আশা করা যায় না। একদিকে যে নতুন বাসা-বাড়ি, স্থাপনা হচ্ছে তারা যেন নিজস্ব সোকওয়েল ও সেফটিক ট্যাংক স্থাপন করেন সেজন্য আমরা তাদেরকে অনুপ্রাণিত করছি। যাতে করে তারা নিজেদের সেপটিক ট্যাংক এবং সোকওয়েল করে সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে কঠোরও হচ্ছি।

পয়ঃপ্রণালি বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো ওয়াসার কাছে রয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, এখন পর্যন্ত পয়ঃপ্রণালি নর্দমা তৈরি করতে পারেনি এবং আদৌ করতে পারবে কি না সেটার কোনো নিশ্চয়তা নাই। আমাদের যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা রয়েছে সেটার প্রেক্ষিতে প্রত্যেক বাসা-বাড়ি, স্থাপনায় নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক এবং সোকওয়েল থাকলে সেখান থেকে যে পানি আসবে সেটা পয়ঃবর্জ্য হবে না। পরিষ্কার পানি বের হবে।

অপরিকল্পিতভাবে হুটহাট চমক দেখালে খাল-নদীকে পয়ঃপ্রণালীর দূষণ হতে রক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে শেখ তাপস এ সময় বলেন, “আমরা যে খালগুলো নিয়ে কাজ করছি সেখানেও অনেক পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ রয়েছে। জিরানী, মান্ডা, কালুনগর ও শ্যামপুর খালে যে পয়ঃপ্রণালি সংযোগ রয়েছে সেগুলোকে আমরা অন্য দিকে ধাবিত করব। খালের পাশ দিয়ে পিট করে দিব। সেই পিট দিয়ে এগুলো মূল প্রণালি সংযোগে চলে যাবে। খালে যেন এই পানিটা নিষ্কাশন না হয়। পর্যায়ক্রমে আমরা এই কাজটি করব। এখনই তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো আমরা অল্প সময়ের জন্য এই সুফল দিতে পারছি না।

এর আগে মেয়র নীলক্ষেত ওয়াসা গলিতে মরিয়ম বিবি শাহী মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন এবং ইত্তেফাক ভবন নিকটবর্তী, টিকাটুলি বাস স্টপেজ ও হাটখোলা মন্দিরের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, ২ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন, কাউন্সিলরদের মধ্যে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং সংরক্ষিত আসনের সেলিনা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box