বাংলাদেশের চিত্র আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করব, তবুও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার সামনে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
বর্তমানে চাঁদাবাজির কারণে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম চারগুণ বেড়ে যায় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। আমরা নিজেরা চাঁদাবাজি করব না এবং অন্য কাউকেও করতে দেব না।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের করা এক মন্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিএনপি আমলে দেশ যখন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন জামায়াতের মন্ত্রীরা কেন পদত্যাগ করেননি- এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্তত কয়েকটি মন্ত্রণালয় যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে এবং দেশের সম্পদ রক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই জামায়াত নেতারা তখন পদত্যাগ করেননি।
শেরপুরে নির্বাচনি সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এখন ভরা মাঘ মাস, এখনই যদি কারও মাথা এত গরম হয়, তবে চৈত্র মাসে কী হবে? গায়ের জোরে কিছুই করা যাবে না। সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
চাঁদাবাজ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে আমীরে জামায়াত বলেন, চাঁদাবাজির সাথে রাজনীতির সম্পর্ক কী? এটি তো দুর্বৃত্তপনা। রাজনীতি হলো নীতির রাজা। কেন চাঁদাবাজির করবেন? চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাবো না। সাথে আমরাও মাঠে নামবো, হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ২৮ তারিখ চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়েছিলেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। আমি বাংলাদেশের মানুষদের কারওয়ান বাজারের মতো সবখানে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান করছি। যেভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে, এটা হতে পারে সরকারের দায়িত্ব অবহেলা ও কিছু লোকের বাটোয়াোর কারণে। এসব দমন করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি ১২ তারিখ জনগণের ভোটে আমরা নির্বাচিত হলে, সকল চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে। আমরা আশা রাখি, ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনের সাথে সাথে নব্বই ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। কারও মুখের দিকে থাকানো হবে না। চাঁদার কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরা সেদিন নির্দয় নিষ্ঠুর হবো।
১৯৪৭ সালে আমরা একটা ভুখন্ড পেয়েছি উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, এই সীমানার ওপর ভিত্তি করে ৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছে, পরে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ২৪ এর আন্দোলনে দেশের আপামর জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু নেতৃত্বে ছিল ছাত্ররা।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে দমন করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৬ জুলাই বোগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সাহসী বিপ্লবী দাঁড়িয়ে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে একটা গুলি দে। আবু সাঈদ ডানা মেলে দিয়ে বলেছিল, বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। সে জীবন দেয়ার মাধ্যমে তার লাশ আর রক্ত এই জাতির কাছে আমানত রেখে গেছে, আমি যে প্রয়োজনে জীবন দিয়েচি, তোমরা সেটা পূরণ করবা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষক তার পণ্যের মূল্য পায় না। পণ্য ঢাকায় আসতে আসতে মূল্য তিন চারগুন হয়ে যায়। এটির কারণ, সিন্ডিকেট ও চাঁদা। এদের কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নতুন বাংলাদেশে আমাদের ভূখণ্ড বদলাবে না, আমাদের চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। গত ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুলুম করা হয়েছে। ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মো. তসলিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুরসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ চাই, আমাদের শিশু, জনগণ ও মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ চাই। তরুণদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। সবাই মিলে সামনের দিনে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
জামায়াত আমীর বলেন, মিরপুর ও কাফরুল এলাকা দীর্ঘদিন সন্ত্রাসের কবলে জর্জরিত ছিল। যাদের মাধ্যমে এ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তাদের হাতে আল্লাহ যেন ক্ষমতা তুলে দেন সেই দোয়া করেন তিনি।
















