জোরপূর্বক শ্রমে’ উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরও তুলনামূলক ‘সুবিধাজনক’ অবস্থানে থাকার কথা বলছে বাংলাদেশ সরকার।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাতে প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় এই শুল্ক আড়াই শতাংশ কম হওয়াকে ‘বড় সুবিধা’ হিসেবেই দেখছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের তরফে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসার পর এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ যখন ১০ শতাংশ শুল্ক মোকাবেলা করছে, তখন চীন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মত অন্যান্য বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিযোগীদের এই হার হবে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ।
“সুনির্দিষ্ট এই পার্থক্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উচ্চ শুল্ক আরোপিত প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের চলমান তুলনামূলক সুবিধাকে আরো জোরদার করছে।”
সরকার বলছে, “বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য মার্কিন তুলা ও বস্ত্র উপকরণ থেকে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে তিন বছর মেয়াদে শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) প্রতিষ্ঠার বিষয় বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর।
“এটা যখন বাস্তবায়ন হবে, তখন বাংলাদেশকে আরো প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রসার করবে।”
পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের উপর ইউএসটিআরের করা তদন্তের পর এসেছে এই ঘোষণা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওয়াশিংটন সময় ২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কের হার সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ। এটি একই আইনের অধীনে এর আগে বিশ্বব্যাপী সাময়িকভাবে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ককে প্রতিস্থাপন করছে।
পাল্টা বাণিজ্য চুক্তির অধীনে থাকা ১৮ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যোগ হওয়ার কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের উৎপাদিত সব পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হবে এই শুল্ক। সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশের উপর বর্তমানে আরোপিত শুল্কের সঙ্গে এটা যোগ হবে।
“৮৬টির মধ্যে যে ১৭ দেশের উপর নিম্ন পর্যায়ের ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক ও রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান রক্ষা পাচ্ছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসই প্রবৃদ্ধি, কমপ্লায়েন্স ও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সরকার আলোচনা অব্যাহত রাখবে।















