পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় নেপালে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে। এর আগে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছিল ৭৫২ জন।
বন্যার পর থেকে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজের তালিকাও তত দীর্ঘ হচ্ছে। নেপাল পুলিশের তথ্যানুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২,৫০২ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৮,১৮৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দেশটির পর্যটন খাতও এ দুর্যোগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ৩২০ জন পর্যটকের কোনো হদিস মিলেনি।
অন্যদিকে হিমালয়ের অপর পাশে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ৭ জন। তবে তথ্য প্রবাহের ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতের ভেতরের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র স্পষ্ট জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিখোঁজদের তালিকায় ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন ব্রিটিশ। এর বাইরে নেপালি কর্তৃপক্ষও তাদের দিক থেকে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। তবে সীমান্ত পারাপারের পথে থাকা এসব নিখোঁজদের মধ্যে কতজন উভয় দেশের তালিকায় সাধারণ বা একই ব্যক্তি, সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।
















