ফ্রান্সে পুলিশের স্টান গ্রেনেডের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর হাত উড়ে যাওয়ার পর বিক্ষোভ দমনে এই গ্রেনেড ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সহিংস আন্দোলন হচ্ছে।
এরমধ্যে গত সোমবার লেঁসে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত উড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পুলিশ স্টান গ্রেনেডটি ছোড়ার পর এটি নিজের হাত দিয়ে ধরে ওই কিশোর। এরপর এটি তার হাতেই বিস্ফোরিত হয়।
স্টান গ্রেনেড মূলত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে ব্যবহার করা হয়। এগুলো যখন ছোড়া হয় তখন প্রচণ্ড শব্দ করে বিস্ফোরিত হয়। এতে করে বিক্ষোভকারীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যান।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেছেন, ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা না পর্যন্ত এ গ্রেনেড ব্যবহার করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আজ বুধবারও অন্তত ৫০০টি স্কুল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকের অপ্রতুলতা এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দেখা যায়। এদিন শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই হাজার স্কুল ব্লকেড করেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে তার মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন তাদের বাদ দিতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ক্লাস চলার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, পুরাতন স্কুলগুলোর পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর জন্য পরিকল্পনা করছে সরকার, সেখান থেকে সরে আসাও তাদের অন্যতম বড় দাবি।
















