সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস
অনুমোদনহীন সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় অনুমোদনহীন সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, সবাইকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া যেসব বাজার আছে, সেগুলো আমাদের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কীভাবে সেই বাজার পরিচালনা হবে, কয়টি বাজার থাকবে এগুলো সব আমরা একটি নীতিমালার আওতায় আনব। এই বাজারগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। সোমবার নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে দায়িত্বভার গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এ কথা বলেন।

প্রতিদিনই যানজটে নাকাল হচ্ছেন নগরবাসী উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ অবস্থায় রাত আটটার পর শপিংমল, মার্কেট ও দোকান খোলা না রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা পরিবারকে দেওয়ার মতো সময়ও হাতে পাবেন।

রাজধানী ঢাকার ধারণক্ষমতা সব সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, এর থেকে দ্রুত পরিত্রাণ ছাড়া উপায় নেই। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে। এ জন্য রাত ৮টার মধ্যেই ঢাকার সব দোকানপাট, শপিং মল বন্ধ করতে হবে। শুধু খাবারের দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এ ছাড়া ওষুধের দোকানসহ জরুরি প্রয়োজনীয় সেবাগুলো তাঁদের সুবিধামতো সময় খোলা রাখতে পারবেন।

মেয়র বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শুরু করা হয়েছে বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। নতুন এই কার্যক্রমের আওতায় পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ, মানসম্পন্ন কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় ও মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে কর্পোরেশনের শুধু পুরাতন ৫৭টি ওয়ার্ডেই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তাছাড়া, সে সময় প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে মাত্র ৪ জন মশক কর্মী এবং প্রতি ৪/৫টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র একজন করে মশক সুপারভাইজার নিয়োজিত ছিল।

দায়িত্বভার গ্রহণ করেই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা প্রতি ওয়ার্ডে ১৩ জন মশক কর্মী ও ১ জন করে মশক সুপারভাইজার নিয়োগ করেছি। বর্তমানে প্রতি ওয়ার্ডে মোট ১৪ জন করে ৭৫টি ওয়ার্ডে সর্বমোট ১ হাজার ৫০ জন কর্মী লার্ভিসাইডিং, এডাল্টিসাইডিং এবং কীটনাশক প্রয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ তদারকি ও সমন্বয় করে চলেছে।
এছাড়াও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষে বিগত ২ বছরে আমরা এডাল্টিসাইডিং কর্মযজ্ঞে ৩৭৫টি নতুন ফগার মেশিন, লার্ভিসাইডিং কর্মকাণ্ড ৪০০টি নতুন হস্ত-পরিচালিত যন্ত্র (হ্যান্ড-স্প্রে মেশিন) এবং কিউলেক্স মশক নিয়ন্ত্রণ কাজে ব্যবহারের জন্য ২৫টি নতুন হুইল-ব্যারো মেশিন ক্রয় করেছি।

দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তিতে দৃঢ়তার সঙ্গে দুর্নীতিমুক্তির দিক থেকে আমরা আমাদের অবস্থান তৈরি করেছি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি তালিকা করা হয়, তাহলে নিশ্চিত করে বলতে পারি এই দুর্নীতিমুক্তির দিক থেকে ১ নম্বর প্রতিষ্ঠান হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। অগ্রযাত্রার দিক থেকে ডিএসসিসিকে কেউ দাবায় রাখতে পারবে না।

মেয়র আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আমরা জাইকা প্রণীত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাস্টারপ্লান অনুযায়ী ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকাণ্ড গুরুত্ব প্রদান দেয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বর্জ্য সংগ্রহ ও তা সরাসরি কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে আমরা ৩০টি কম্পেক্টর ভেহিক্যাল ক্রয় করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আহবানকৃত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মূল্যায়ন কার্যক্রম বর্তমানে চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে আরও শতাধিক কম্পেক্টর ভেহিক্যাল ক্রয় করতে আমরা নতুন আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করছি। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপিস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box