অপহরণের ৪৮ ঘন্টা পর শিশুর লাশ উদ্ধার

নীলফামারী জলঢাকায় অপহরণের ৪৮ ঘন্টা পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোলমুন্ডার তিস্তা নদীর চরে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়।
আমেনা আক্তার নামে ৩ বছরের ওই শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি হওয়ার পরও তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমেনা আক্তার উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ি গ্রামের আলকাজ আলীর মেয়ে।
এই ঘটনায় এক গৃহবধূসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ আটককৃতদের বিষয়ে কোন তথ্য জানায়নি। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে জলঢাকা থানা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির বাইরের আঙ্গিনায় প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা করতে যায় শিশু আমেনা। সারাদিন রোজা থাকায় আমেনার মা নার্গিস বেগম সন্ধ্যায় রান্না ঘরে ইফতার করতে যায়। ইফতার শেষে নামাজ পড়তে যায়। তখনও আমেনা উঠানেই খেলছিল।
নার্গিস বেগম নামাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উঠানে এসে দেখেন আমেনা নেই। আমেনাকে না পেয়ে সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি বাড়ির পাশের পুকুরে নেমেও খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু শিশু আমেনাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে কয়েক দিন আগে আমেনার চাচা আশরাফের একটি বাটন মোবাইল হারিয়ে যায়। সেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল থেকে শিশুটির বাড়িতে ফোন করে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। আর তা না করলে শিশু আমেনাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
অপহরণকারীদের কথা মতো এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে রাজি হন শিশুটির বাবা। পরে বাড়ির পূর্ব পাশের সবজি বাগানে টাকাগুলো রেখে আসতে বলে অপহরণকারীরা। আমরা তোমার বাচ্চাকে যথা সময়ে ছেড়ে দেব বলেও আশ্বস্ত করে এবং শিশুটির ঘুমন্ত ছবি তার বাবার মোবাইলের ইমুতে পাঠায়।
টাকা সংগ্রহের পরে শিশুটির পরিবার সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বুধবার বিকেলে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডার তিস্তা নদীর চর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির বাবা আলকাজ আলী বলেন, আমি তো তাদের কথা মতো টাকা দিতে রাজি ছিলাম। তাহলে আমার মেয়েটাকে কেন মেরে ফেলল। আমি বিচার চাই। আমার মেয়ের সঙ্গে এমন হয়েছে আর যেন কারো সঙ্গে এমন না হয়।
জলঢাকা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, এই ঘটনায় তিনজকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হবে।

Facebook Comments Box