নিজস্ব প্রতিবেদক,
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণসংক্রান্ত প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে গেল।
এর আগে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে বেতন, ভাতা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আগে নির্দিষ্ট বেতন-ভাতার অঙ্ক নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন উল্লেখ করে একাধিক প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ধাপে ধাপে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও এর আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি উল্লেখ থাকবে।
এর আগে নতুন পে-স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে বর্ধিত বেতন কবে থেকে হাতে পাওয়া যাবে এবং বকেয়া কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা প্রজ্ঞাপন ও পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
নবম পে-স্কেলের অনুমোদনের খবর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেলের ফলে সরকারি কর্মচারীদের আয় ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়বে। ফলে বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল। প্রজ্ঞাপন জারির পরই নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
















