কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার ও ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি, খতিয়ান ও ভূমিকর বিষয়ক আবেদনের সমাধান করতে হবে। সোমবার তেজগাঁও ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয় আয়োজিত জনবান্ধব ভূমি সেবায় গণমাধ্যম বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এর আগে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ভূমি ভবনের নাগরিক সেবা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখানো হয়।
তহশিলদারদের দৌড়াত্ম থামাতে অনলাইন সুবিধা নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ডিসি ও এসিল্যান্ডদের ভূমি অফিসের দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবারও আনার চেষ্টা চলছে। ভূমি বন্টনের মামলা নিস্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করার বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমরা বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমে জমির খতিয়ান পেয়ে যাবো। পাশাপাশি জমির খাজনা দেওয়াটাও সহজ হয়ে যাবে। প্রায়সময় আমরা শুনি ১০০ টাকার খাজনা দিতে গিয়ে এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এখন আর এসব থাকবে না।
মাঠ পর্যায়ে ভূমি অফিস ও ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসের এক শ্রেণির মধ্যসত্বাভোগীদের অপতৎপরতা ও হয়রানির কারণে ভূমি নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ভূমি সেবার ডিজিটাইজেশন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের সেবা গ্রহণে একটু সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা দূরীকরণ নানা প্রশিক্ষণ কৌশলের মাধ্যমে নাগরিকদের পাশাপাশি ভূমিসেবা প্রদানকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গ্রামে যখন পূর্বে সার্ভে করা হতো তখন মাপজোক ঠিক হওয়া নিয়ে কিংবা জমির পরিমাপ ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়ে ভয় কাজ করতো জানিয়ে এ এফ হাসান আরিফ বলেন, এ বিপত্তিগুলো সৃষ্টি হতো বলে গ্রামগঞ্জে অস্থিরতা তৈরি হতো। পাশাপাশি মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা হতো। এর ফলে সমাজে বড় একটি অংশের মানুষ ভূমি জরিপ নিয়ে ধারণা না থাকার কারণে দিনের পর দিন ভোগান্তির মধ্যে পড়তো। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছি। এসময় সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজ চালু হলে ভূমি বিষয়ক মামলা মোকাদ্দমা, হানাহানি বন্ধ হয়ে নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম কর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শের আলোকে ভূমি মন্ত্রণালয় আরো জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকৌশল গ্রহণে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
















