ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঐতিহ্যবাহী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৯ আগস্ট রাজধানীর লালবাগ কেল্লায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এটাই হবে এই উৎসবের সর্বশেষ আয়োজন। বৃহস্পতিবার নগরভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।

তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবারের ৪১৬ বছরের উৎসব উদযাপন করা হবে। ‘উৎসব, গর্ব ও দায়িত্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরায় জাগ্রত করার প্রত্যাশা থেকেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। মানুষ যখন ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করে বসবাস করবে, তখনই তারা শহরটিকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ববোধও অনুভব করবে। এদিকে, উৎসবকে ঘিরে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। ২৯ তারিখ বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় ফাইনাল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন যে, তিনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং আমাদের এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরের প্রশাসকও সেখানে থাকবেন। এখানে মূল যে প্রোগ্রামটা সেখানেও প্রধানমন্ত্রীকে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা থাকবে। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন স্থল থাকবে। ঢাকার ওপর রচিত অনেকে বই আছে, সেটার একটা প্রদর্শনী থাকবে। আদি ঢাকার বিখ্যাত খাবারের স্টল সেখানে থাকবে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ করবেন। তারপরে লালবাগের কেল্লা পরিদর্শন করবেন। ফেস্টুন ও বেলুন অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে তিনি প্রোগ্রামটা উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে পায়রা অবমুক্ত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু। আর ১৮৬৪ সালের ১লা আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা। কালের বিবর্তনে যা আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তাই ১লা আগস্টকে আমরা ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী এই ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য।

প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরে আমরা অনেকেই বসবাস করি। কেউ জন্মসূত্রে, কেউ জীবিকার জন্য আবার কেউ শিক্ষার জন্য। কেউ স্থায়ী ভাবে আবার কেউ অস্থায়ী ভাবে। কিন্তু এই শহর আমাদের আশ্রয় দিয়েছে-এই সূত্রে আমরা সবাই এই শহরের নাগরিক। কিন্তু শতবর্ষী এই রাজধানীর ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সাথে দৃঢ় বন্ধন না থাকায় এই শহরকে আমরা অনেকেই আপন করে নিতে পারিনি। ফলে, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষাসহ সার্বিক বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নাগরিকদের কাছে রাজধানী ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি তুলে ধরে নাগরিকদের হৃদয়ে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরির জন্যেই এই আয়োজন। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্মার্ট ও নাগরিকবান্ধব ঢাকা গড়ে তুলতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

Facebook Comments Box