দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ৪৪৪ জন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিদিন প্রায় ৪৪৪ জন মানুষ মারা যায়। বুধবার ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের আগেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি সংগঠন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুর‌্যাল পুওর (ডরপ)। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী তামাক পণ্য ব্যবহারকারীর হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। পরোক্ষ ধূমপায়ীর হার ১৮ শতাংশ। ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর হার ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। তামাক ব্যবহারের ফলে মানুষ হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া দ্রুত পাসে সংসদ সদ্স্যদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা জরুরি। জনগণের কাছে যেহেতু গণমাধ্যমই দ্রুত সময়ে পৌঁছায় তাই আইনটির পক্ষে জনমতকে প্রভাবিত করতে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান (অর্থোপেডিকস) অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘তামাকের জন্য হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সবাই জানেন। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে ক্ষতি করছে তা নিরোধ করতে খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি দ্রুত পাস হওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এন. আই. ভূঁইয়া বলেন, ‘ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের পক্ষে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যের পক্ষে যেহেতু এটি মারাত্মক ঝুঁকি তাই এর পক্ষে কথা বলার কোনও সুযোগ নেই।’

বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ খসড়ায় যে বিষয়গুলো প্রস্তাব করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল– অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, প্রচার বন্ধের জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের সব ধরনের খুচরা ও খোলা বিক্রি বন্ধ করা, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।

Facebook Comments Box