মিয়ানমারে গোলাগুলি, সীমান্তে ‘রকেট’ আতঙ্ক

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত-সংঘর্ষ বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলছে। শনিবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নসংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে গুলি, রকেট ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকা বারবার কেঁপে ওঠে। ওপারের গুলি ও রকেট এপারে এসে পড়ছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে ‘অবিস্ফোরিত রকেট’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শনিবার সকালে তুমব্রু নতুনখালের ধানখেতে তিনটি অবিস্ফোরিত রকেট পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার নোয়াপাড়া ও তুমব্রু বাজারপাড়ায় দুটি মর্টারশেল পাওয়া যায়। এ কারণে সীমান্তবাসীদের আতঙ্ক কাটছে না। এদিকে সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সড়কের ব্রিজসংলগ্ন স্থানে অক্ষত রকেট দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেয়। এটি উদ্ধার করে বিজিবি নিরাপদ স্থানে রেখেছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, হাট-বাজারে মানুষজনের আনাগোনা বাড়লেও তারা আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবিস্ফোরিত গোলা, গুলি ও বোমার অংশবিশেষ পাওয়া যাচ্ছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, মিয়ানমার থেকে একের পর এক ছোড়া গুলি, মর্টারশেল ও বোমার অংশবিশেষ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট, ক্ষেতখোলা, বসতভিটা ও আঙিনায় পড়ছে। শনিবার সকালে সীমান্ত এলাকায় অবিস্ফোরিত দুটি মর্টারশেল পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে লাল পতাকা দিয়ে লোকজনের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু উত্তেজনাকর সীমান্ত পরিস্থিতিতে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫০২ জন এসএসসি ও ভোকেশনাল কারিগরি শিক্ষা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। নির্ধারিত সময়ে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে বিকল্প হিসাবে উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নসংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে গুলি ও মর্টারশেলের বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকা বারবার কেঁপে ওঠে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে তিনটি অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়েছে বলে কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছে। তবে একটি লাশ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা ফরিদ আলম জানান, ফজরের সময় মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দে আমরা ছোটাছুটি করি। এ সময় এখানকার বাড়িঘরে চারটি গোলা এসে পড়ে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ার জানান, ইউনিয়নের লম্বাবিল, উনচিপ্রাং, কানজরপাড়া সীমান্তের ওপারে গুলি, মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। শনিবার ভোরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষে গোলাগুলি ও মর্টারশেল ব্যবহারের শব্দ পাওয়া যায়। কয়েকটি গুলি লম্বাবিল ও উনচিপ্রাং এলাকার বাড়িঘরে এসে পড়ে। এদিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হোয়াইক্যং ইউপির ২নং ওয়ার্ডের লালু মেম্বার জানান, ভোর থেকে গুলির শব্দে এলাকার মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মিয়ানমার ছোড়া গুলির অংশ এলাকার বসতভিটায় পড়েছে। বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরের দিকে উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির সহায়তায় একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন জানান, রহমতের বিল সীমান্ত থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তকরণে কাজ চলছে। রাতে নাফ নদী হয়ে নৌকাযোগে ১০০ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার লুৎফুল লাহিল মজিদ।

Facebook Comments Box