রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন কর্নেল অলি

নির্বাচন কমিশনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এসময় হামিদুর রহমান আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, একটা বিষয় আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীত রেকর্ডে আমাদের জানা নেই। এই যে কাজটি তারা করছেন, তাহলে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, ১১ দলীয় জোট তা চায় না। গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই তারা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রতিনিধিদল সবাই একসঙ্গে উনার কনফারেন্স রুমে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি।

আমাদের মনোনীত প্রার্থী ১১ দলের পক্ষ থেকে ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। আর নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আল-আমিন সমর্থক। ফরমে তারা যে সকল তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন, সুনিপুণভাবে ও বিশুদ্ধভাবে আমরা লিখিতভাবে পূরণ করে আজ জমা দিয়েছি। এরসঙ্গে প্রস্তাবক ও সমর্থকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনে অন্য কোনো ডকুমেন্টের কথা বলা নেই। নির্দেশিকাতেও নেই। যতটুকু প্রয়োজন, তা পূরণ করে আমরা জমা দিয়েছি। আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রার্থী ব্যালট প্রার্থী হিসেবে যথাযথ যাচাইয়ের পর ১৬ তারিখের যাচাইপর্বে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবেন। আমরা এই প্রত্যাশা রাখছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে অনেকের কৌতূহল আছে। ইতোমধ্যে পুরো জাতির মধ্যে এটি একটি আলোচিত বিষয়। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সরকার এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সাধারণত সরকারি দলেরই একক প্রার্থী থাকে। এখানে প্রতিনিধিত্ব হয় না।

তিনি বলেন, একটি মাত্র ইতিহাস বা রেকর্ড আছে, ১৯৯১ সালে যখন সংসদে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে বিএনপির ১৪২ জন সংসদ সদস্য ছিল। পরে নারী আসন যোগ হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে, এককভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিজয়ী করার মতো সংসদ সদস্য ভোটার বিএনপির ছিল না। সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদের বিরোধী দল ছিল। তারা একজন প্রার্থী দিয়েছিল, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, যার নাম আপনারা জানেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে জামায়াতসহ অন্যান্য সমর্থক সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এরপর আর কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো প্রার্থী এই পদে হয়নি। তিনি বলেন, এবার আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১ দলের বৈঠকে শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ড. কর্নেল অলি আহমেদকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি। কেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি প্রশ্ন আপনাদের পক্ষ থেকে আগেও এসেছিল, এখনো জাতির কাছে আলোচিত প্রশ্ন। একটা হলো, আপনাদের তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাহলে আপনারা কেন এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন? আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা আমরা সৃষ্টি করছি।
‘১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল, বিএনপির আসন কম থাকায়। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নেই। বিএনপি আগেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার কলাকৌশল করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে আমরা জিতব কি হারব, সেটা নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, আমরা তা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের ধারা। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসময় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box