সংরক্ষিত কোটায় ২৮৫ বিশেষ ব্যাক্তিকে প্লট বরাদ্দ

শফিকুল ইসলাম

দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে সাধারন মানুষকে প্লট বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। তবে সংরক্ষিত কোটায় গত কয়েক বছরে ২৮৫ বিশেষ ব্যাক্তিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই রয়েছেন সাবেক ও বর্তমান সাংসদ সদস্য। তবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের কাউকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। রাজউক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছরে ২৮৫ জনকে ২৪৯টি প্লট দিয়েছে রাজউক কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সাংসদ সদস্য রয়েছেন ১৪৬ জন। এরমধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্তদের প্লট বরাদ্দ না দেয়ায় তারা রাজউকের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প হচ্ছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। পূর্বাচলে সংরক্ষিত কোটায় ১০ শতাংশের মতো প্লট রাখা হয়েছিল। অনেক আগেই সেই কোটা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই এখনো প্লট বুঝে পাননি। অথচ রাজউকের বিধিমালা অনুযায়ী, যাদের জমি বা বাড়ি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে তারা আগে অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু রাজউক তা করেনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা এ বিষয়ে অসহায় হয়ে পড়ছে। তারা জানিয়েছেন, আমাদের জায়গায় প্রকল্প করে আমাদের রাজউক ঠকাচ্ছে। অথচ বিশেষ ব্যাক্তিদের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সাংসদ সদস্যদের মধ্যে রাজউকের প্লট বরাদ্দ যারা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিরোজা বেগম (সংরক্ষিত নারী আসন), ফাহমী গোলন্দাজ (ময়মনসিংহ), কামরুন নাহার চৌধুরী (সংরক্ষিত), জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ), শাহানারা বেগম (সংরক্ষিত), মো. শফিকুল ইসলাম (নাটোর), এনামুর রহমান (সাভার), কামাল আহমেদ মজুমদার (ঢাকা), টিপু সুলতান (বরিশাল), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), ইখতিকার উদ্দিন তালুকদার (নেত্রকোনা) ও মো. আবুল কালাম (নাটোর)। মো. আফতাব উদ্দিন সরকার (নীলফামারী), সফুরা বেগম (সংরক্ষিত), গোলাম মোস্তফা (নীলফামারী), এইচ এম ইব্রাহিম (নোয়াখালী), শেখ হাফিজুর রহমান (নড়াইল), মো. মনিরুল ইসলাম (যশোর), পীর ফজলুর রহমান (সুনামগঞ্জ), শিবলী সাদিক (দিনাজপুর), স্বপন ভট্টাচার্য (যশোর), মো. আয়েন উদ্দিন (রাজশাহী), মো. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা), আখতার জাহান (সংরক্ষিত), মোহাম্মদ ইলিয়াছ (কক্সবাজার), পংকজ নাথ (বরিশাল), মো. আমির হোসেন (কুমিল্লা), মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরী (হবিগঞ্জ), কামরুল লায়লা (সংরক্ষিত), ওয়াসিকা আয়শা খান (সংরক্ষিত), খোরশেদ আরা হক (সংরক্ষিত), ফাতেমা জোহরা (সংরক্ষিত), আয়শা ফেরদাউস (হাতিয়া), মো. ছানোয়ার হোসেন (টাঙ্গাইল), ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী), লায়লা আরজুমান (সংরক্ষিত), নাজিম উদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ), সৈয়দা সায়রা মহসীন (মৌলভীবাজার), হাবিবে মিল্লাত (সিরাজগঞ্জ), আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া), শাহানারা বেগম (সংরক্ষিত), মুস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা), মেরিনা রহমান (সংরক্ষিত), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর), এম এ মালেক (ঢাকা), মো. মকবুল হোসেন (মেহেরপুর), কামরুল আশরাফ খান (নরসিংদী), ফাতেমা তুজ্জহরা (সংরক্ষিত), মো. ইয়াসিন আলী (ঠাকুরগাঁও), আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (সংরক্ষিত), মো. রুহুল আমিন (কুড়িগ্রাম), নুরজাহান বেগম (সংরক্ষিত), সুকুমার রঞ্জন ঘোষ (মুন্সিগঞ্জ), মো. মামুনুর রশীদ কিরণ (নোয়াখালী), হাজেরা খাতুন (সংরক্ষিত), মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (খুলনা) ও মো. ছলিম উদ্দীন তরফদারও (নওগাঁ) প্লট পেয়েছেন। সাংসদ শ ম রেজাউল করিম (পিরোজপুর), গোলাম সারোয়ার (বরগুনা), মুস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা), রহিমা আখতার (সংরক্ষিত), এ বি তাজুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান (মেহেরপুর), হোসনে আরা (সংরক্ষিত), খালেদা খানম (সংরক্ষিত) ও জিন্নাতুল বাকিয়া (সংরক্ষিত) লিয়াকত হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), লুৎফুন নেছা (সংরক্ষিত), রাজী মোহাম্মদ ফখরুল (কুমিল্লা), তাহজীব আলম সিদ্দিকী (ঝিনাইদহ), এ এম নাঈমুর রহমান (মানিকগঞ্জ), অনুপম শাহজাহান (টাঙ্গাইল), এ কে এম রেজাউল করিম (বগুড়া), মো. আক্কাছ আলী সরকার (কুড়িগ্রাম), গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মৃণাল কান্তি দাস (মুন্সিগঞ্জ) ও কাজী ফিরোজ রশীদ (ঢাকা) রয়েছেন তালিকায়। এ তালিকায় আরও রয়েছেন ঊষাতন তালুকদার (রাঙামাটি), নিজাম উদ্দিন হাজারী (ফেনী), সালাউদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ), মো. সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ), শরীফ আহমেদ (ময়মনসিংহ), মো. রেজাউল হক চৌধুরী (কুষ্টিয়া), সামছুল আলম (জয়পুরহাট), গাজী ম ম আমজাদ হোসেন (সিরাজগঞ্জ), খন্দকার আজিজুল হক (পাবনা), আবু সাঈদ আল মাহমুদ (জয়পুরহাট), আবুল কালাম আজাদ (গাইবান্ধা), আনোয়ারুল আবেদীন খান (ময়মনসিংহ), গোলাম রাব্বানী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মো. আনোয়ারুল আজীম (ঝিনাইদহ), মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (চাঁদপুর), মো. আবদুল্লাহ (ল²ীপুর), ছবি বিশ্বাস (নেত্রকোনা) ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী (গাইবান্ধা)। এম এ মান্নান (সুনামগঞ্জ), আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী (চট্টগ্রাম), মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী (কুড়িগ্রাম), মো. নুরুল ইসলাম (বগুড়া), আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী (রংপুর), মমতাজ বেগম (সংরক্ষিত), উম্মে রাজিয়া (সংরক্ষিত), হেপী বড়াল (সংরক্ষিত), রহিম উল্যাহ (ফেনী), মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মো. শওকত চৌধুরী (নীলফামারী), সেলিম উদ্দিন (সিলেট), রিফাত আমিন (সংরক্ষিত), মাহফুজুর রহমান (চট্টগ্রাম), মনোয়ারা বেগম (সংরক্ষিত), সাইমুম সরওয়ার (কক্সবাজার), দিলারা বেগম (সংরক্ষিত), সেলিনা বেগম (সংরক্ষিত), সেলিনা জাহান (সংরক্ষিত), এম এ আউয়াল (লক্ষীপুর), উম্মে কুলসুম (সংরক্ষিত), আলী আজম (ভোলা), মো. নুরুল ইসলাম (কুমিল্লা), মুহাম্মদ আলতাফ আলী (বগুড়া), রওশন আরা মান্নান (সংরক্ষিত), মোহাম্মদ নোমান (লক্ষীপুর), রোকসানা ইয়াসমিন (সংরক্ষিত), নাভানা আক্তার (সংরক্ষিত), সেলিনা আখতার (সংরক্ষিত), রহিমা আখতার (সংরক্ষিত) এবং মাহজাবিন খালেদও (সংরক্ষিত) প্লট পেয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন মো. আবদুল মতিন (মৌলভীবাজার), এস এম জগলুল হায়দার (সাতক্ষীরা), লুৎফুন নেছা (সংরক্ষিত), মো. নবী নেওয়াজ (ঝিনাইদহ), মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ (জামালপুর), নুরুজ্জামান আহমেদ (লালমনিরহাট), হোসনে আরা বেগম (সংরক্ষিত), জাহান আরা বেগম (সংরক্ষিত), ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী (সিলেট), কাজী রোজী (সংরক্ষিত), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম), এস এম আবুল কালাম আজাদ (ঢাকা), আশেক উল্লাহ (কক্সবাজার), সাবিহা নাহার (সংরক্ষিত), হোসনে আরা লুৎফা (সংরক্ষিত), শামছুন নাহার (সংরক্ষিত), মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার (বগুড়া), মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান (টাঙ্গাইল), মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (চট্টগ্রাম) ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (বগুড়া) প্লট পাওয়াদের তালিকায় রয়েছেন। এদিকে, সাংসদদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্লটগুলো বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিলো। এ ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রাধান্য পেয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় ও জনগুরুপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান বিবেচনায় নিয়ে বিধি মেনেই রাজউক প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। এতে কার কী অবদান আছে, সেটি মন্ত্রণালয় ও রাজউক উভয় পর্যায়ের যাচাই-বাছাই করেই দেয়া হয়েছে। তারপরও কোনো প্লট বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments Box