নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে যারা সরকারি দল বা আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী তাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ যেকোনো ধরনের ঘটনা ঘটলে পুরো দায় সরকারের ওপর চলে যায়। নির্বাচনে আচরণবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন শুধু আমাদের চোখেই দেখছি না। এ নির্বাচন বিশ্ববাসী দেখছে। এ নির্বাচনের ওপর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আমাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের কঠোরতার চরমপর্যায়ে যেতে হয়। প্রয়োজনে আমরা প্রার্থিতা বাতিল করে দেব। ভোট বন্ধ করে দেব। আবার পুনর্নির্বাচন করব। যতবার প্রয়োজন ততবার নির্বাচন করব, ভোট সুষ্ঠু হতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হল মিলনায়তনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনিছুর রহমান আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর-১ আসন নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। কিন্তু কেন এমন হবে। যত বড় শক্তিশালীই হোক আমরা কাউকে ছাড় দেব না। আমরা যখন প্রার্থিতা বাতিল করে দেব, তখন কারোই কিছু করার থাকবে না। এরপর পুনর্নির্বাচন হলেও আপনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। সমগ্র বাংলাদেশে একইভাবে কেউ কোনো ঘটনা ঘটাবেন প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায় কেউ করতে পারবেন না। ভোটে অবৈধভাবে কেউ বাক্স ভরার চিন্তা করলে, ভুলে যান। কারণ ভোট বাতিল হয়ে যাবে। ভোট সেখানে আবার হবে। প্রয়োজনে একটা আসনের সমগ্র কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে। গাইবান্ধা-৫ আসন তার প্রকৃত উদাহরণ।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্মীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ।
প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন খান (নৌকা), এমএ গোফরান (কেটলি), হাবিবুর রহমান পবন (ঈগল), লক্ষ্মীপুর-২ আসনের প্রার্থী নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন (নৌকা), বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠু (লাঙ্গল), লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী গোলাম ফারুক পিংকু (নৌকা), এমএ সাত্তার (ট্রাক প্রতীক), মোহাম্মদ রাকিব হোসেন (লাঙ্গল), লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন (নৌকা) ও ইস্কান্দার মির্জা শামীম (ট্রাক প্রতীক) প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুরের ৪টি সংসদীয় আসনে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৯৩ জন পুরুষ, ৭ লাখ ২২ হাজার ৩৯৯ নারী ও ৪ জন হিজড়া ভোটার আছেন। জেলার ৫টি উপজেলার ৪টি পৌরসভা ও ৫৮টি ইউনিয়নে ৪৭৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
















