সুস্থ, সচল ও স্মার্ট ঢাকা গড়তে সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নগরের সেবক হিসেবে চেষ্টা করে যাচ্ছি জনগণের জন্য কাজ করতে। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশান-২ এ নগর ভবনের প্রধান কার্যালয়ের হল রুমে মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছর পূর্তিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেছেন, এই তিন বছরে ডিএনসিসির যত ধরনের সফলতা আছে তার সকল কৃতিত্ব জনগণের। আর সেই সঙ্গে যত ব্যর্থতা আছে তা আমার নিজের কাঁধে নিলাম। তিন বছর আগে যে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, আবার কিছু কাজ করা সম্ভব হয়নি। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অনেকটা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।
ডিএনসিসির আওতাধীন খাল থেকে গত এক বছরে ২ লক্ষ টন বর্জ্য আমরা অপসারণ করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, এতে পানি প্রবাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড থেকে আমরা ৩০ লক্ষ ঘনফুট মাটি সরিয়ে এর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর আবর্জনার এসটিএস ৫২টির কাজ করেছি, এ বছর আরও নয়টির কাজ আমাদের চলমান আছে।
আন্ডারগ্রাউন্ড এসটিএস নির্মাণের আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সবাই সব এলাকাতে এসটিএস চায় কিন্তু কেউ জায়গা দিতে চায় না। তাই আমরা চিন্তা করেছি জায়গা যেন নষ্ট না হয়, সে কারণে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড এসটিএস নির্মাণ করবো।
তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে আমরা উন্মুক্ত স্থান ও পার্কগুলো ব্যবহার উপযোগী এবং দখলমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। অনেকগুলো ইতোমধ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো করতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, আমরা সেগুলো রিকভার করেছি। আমি নির্দেশনা দিয়েছি পার্কের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে যেন একটিও গাছ না কাটা হয়। গাছগুলো রেখেই আরও নতুন নতুন গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছি।
রাস্তার সিগন্যাল গুলোকে অটো করা যায় কিনা এমন প্রশ্ন জবাবে মেয়র বলেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে এখন আর সিগন্যাল হাতে চলে না। শুধুমাত্র আমাদের দেশের সিগন্যাল হাতে চলে। ট্রাফিক সিগন্যাল ইস্যু নিয়ে চলতি মাসে মিটিংয়ে বসবো। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে টেকনিক্যাল সমাধান নিয়ে কাজ করব। আমরাও খুব শিগগিরই ট্রাফিক সিগন্যালকে ডিজিটালে নিয়ে আসব।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে একটি সফটওয়্যার নিয়ে এসেছি। লেন ভিত্তিক কাজ পরিচালনার জন্য এ সফটওয়্যার কাজ করবে। যদি কেউ লেন অমান্য করে অথবা অতিরিক্ত গতিতে যদি গাড়ি চালায় তাহলে তার গাড়ির নম্বর পর্যালোচনা করে তার বাড়ির ঠিকানায় জরিমানার স্লিপ চলে যাবে। উন্নত দেশের মতো এমন সিস্টেম উত্তর সিটিতে দ্রুতই চালু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, কাউন্সিলরবৃন্দ এবং ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। উল্লৈখ্য, ২০২০ সালের ১৩ মে ঢাকা মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. আতিকুল ইসলাম। ওইদিন প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।















