বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারবাজারের ওঠানামার সময় অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় বলে বিবেচনা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর একটি ছোট অংশ সোনায় রাখলে ঝুঁকি কমানো এবং সম্পদের মূল্য সুরক্ষায় সহায়তা মিলতে পারে। তবে সোনা কেনার আগে এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
সোনায় কেন বিনিয়োগ করবেন?
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের সময় অনেক বিনিয়োগকারী সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় সোনার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কখনো কখনো চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর দামও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি সোনা থাকলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ পোর্টফোলিও গড়ে ওঠে।
কতটা সোনা রাখা উচিত
অর্থবিষয়ক পডকাস্টার এবং উইমেন ইন ওয়েলথ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা মিশেল টেলরের মতে, অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর জন্য মোট বিনিয়োগের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ সোনা বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে রাখা যুক্তিযুক্ত।
তার কথায়, এটি সোনার দামে বড় মুনাফার বাজি ধরার বিষয় নয়। বরং মুদ্রার অবমূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি এবং বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি কমানোর একটি কৌশল।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সোনা থেকে নিয়মিত লভ্যাংশ বা আয় পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সোনার দামেও উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হতে পারে।
সোনায় বিনিয়োগের বিভিন্ন উপায়
সোনার বার বা বুলিয়ন সরাসরি সোনায় বিনিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। এসব বারে সাধারণত বিশুদ্ধতা, ওজন এবং প্রস্তুতকারকের তথ্য উল্লেখ থাকে। সোনার কয়েনও অনেক বিনিয়োগকারীর পছন্দ। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু স্বীকৃত স্বর্ণমুদ্রার চাহিদা বেশি।
অন্যদিকে, সোনাভিত্তিক অবসরকালীন বিনিয়োগ হিসাব বা গোল্ড আইআরএ’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সোনায় বিনিয়োগ করা যায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মানের সোনা এবং অনুমোদিত সংরক্ষণব্যবস্থা অনুসরণ করতে হয়।
গহনা কেনা কি ভালো বিনিয়োগ?
সোনার গহনা কিনেও বিনিয়োগ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে অলংকার তৈরির খরচ এবং অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত থাকে। ফলে গহনা কিনলে বিশুদ্ধ সোনার তুলনায় বেশি দাম গুনতে হতে পারে।
এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ গয়নার পরিবর্তে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনার বার বা স্বর্ণমুদ্রাকে বেশি কার্যকর মনে করেন।
শুধু বাস্তবিক সোনা নয়, স্বর্ণখনি বা সোনা প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেও সোনার বাজারে বিনিয়োগ করা যায়। এতে সরাসরি সোনার মালিকানা না থাকলেও সোনার দামের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে লাভের সুযোগ থাকে।
এ ছাড়া গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমেও সোনায় বিনিয়োগ করা সম্ভব। এসব তহবিল সরাসরি সোনা, স্বর্ণ কোম্পানির শেয়ার অথবা স্বর্ণভিত্তিক ডেরিভেটিভে বিনিয়োগ করে।
ফিউচারস চুক্তি কাদের জন্য লাভজনক?
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ড ফিউচারস চুক্তি একটি ভালো বিকল্প। এতে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত দামে সোনা কেনাবেচার চুক্তি করা হয়। মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা থেকে লাভের পাশাপাশি এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়ও ব্যবহৃত হয়।
তবে এ ধরনের বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
















