ডিজিটাল সংযোগ :
হাতিয়া ও রামগতির শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো দ্রুতগতির ইন্টারনেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দুর্গম উপকূল হাতিয়া এবং রামগতিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের “ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ার ১০২টি প্রতিষ্ঠান এবং লক্ষীপুরের রামগতির দেড়শ’র বেশি প্রতিষ্ঠান উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পেয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশে ৫০ হাজারের বেশি ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে হাতিয়া, রামগতির মতো দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যাতে করে উপকূলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না থাকে।
ইডিসি প্রকল্পের আওতায় কে এস নেটওয়ার্ক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইতিমধ্যে হাতিয়ায় ১০২টি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে; এর সিংহভাগই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস কিংবা সমাজ সেবা অফিসের মত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তারা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছেন। একইভাবে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রস্থল রামগতির দেড়শতাধিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
হাতিয়া, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে নোয়াখালীর এক প্রত্যন্ত অঞ্চল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই বসবাস করেন এখানকার মানুষ। তারা মূলত কৃষিজীবী বা মৎস্যজীবী, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। এখন উচ্চগরিত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌছে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক দিগন্তের উন্মিচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
হাতিয়া দ্বীপের নলচিরা লঞ্চঘাটে পৌঁছে সুখচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেলো, সম্প্রতি সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাইমুল্লাহ বলেন, “আমাদের একটি ল্যাপটপ আছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজ সহজে করতে পারছি। শিক্ষকরাও মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছেন।”
একই এলাকার আব্দুল মোতালেব (এ এম) উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসিটি ল্যাব চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, কয়েক মাস আগে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ পাওয়ার পর এখন তারা ই-লার্নিং, ভিডিও কনটেন্ট দেখা ও ব্রাউজিংসহ নানা কাজ সহজে করতে পারছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “ব্রডব্যান্ড সংযোগের কারণে শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ও টিউটোরিয়াল ব্যবহার করে জটিল বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করছে। এতে তাদের শেখার আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
রামগতি উপজেলার আলেকজেন্ডার পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিশা আক্তার বলেন,
“আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ খুব সীমিত ছিল। বাবার ফোনে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতাম, কিন্তু সেখানে ডেটা সবসময় থাকত না। স্কুলে ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এখন আমরা অনেক কিছু শিখতে পারছি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন জানান, সরকার এখানে একটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছে এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে। তবে দীর্ঘসময় লোডশেডিং থাকার কারণে অনেক সময় এর সুফল ব্যাহত হয়।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন,”সরকারের এই উদ্যোগ কেবল সংযোগ নয়, এটি উন্নয়নের পথ। আমরা প্রত্যন্ত জনগণের কাছে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এর মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।”
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রমকে টেকসই করতে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহাকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার বেনজির আহমেদ বলেন,”গত কয়েক মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিসসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল সংযোগ উপকূলবাসীর জীবনে পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।

Facebook Comments Box