হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্ব অনিরাপদ হয়ে উঠছে 

হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্ব অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুরস্কে সরকারি সফর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য সৌদি আরব হুতিদের দায়ী করেছে। সৌদি আরব হচ্ছে হারামাইন শরীফাইনের দেশ। যেখানে আল্লাহর ঘর কাবা এবং রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মসজিদ এবং রওজা। আর কালামে হাকিমও নাযিল হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে যে কেউ হামলা করুক, এটা কোনো শুভ কাজ নয়। এটা একটা অশুভ কাজ। এজন্য এই ধরনের হামলার আমরা নিন্দা করি। যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা যাই থাকুক সেটা সমাধান হওয়া উচিত। এই হামলায় এ পর্যন্ত আমাদের জানামতে ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, রিয়াদের আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর থেকে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেরও দুইটি ফ্লাইট আমাদের এখানকার অথরিটি এটাকে স্থগিত করেছে। কিং খালিদ এয়ারপোর্টটি অতি বড় মাপের একটা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাখ লাখ প্যাসেঞ্জার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এই ক্ষেত্রে হামলা পাল্টা হামলায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাবো। গোটা বিশ্ব এখন অস্থির এবং অশান্তিতে পড়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় মানুষের জীবন তুচ্ছ হয়ে উঠেছে। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই না যে এটা আর হোক। এইজন্য আমরা দাবি করছি সবাই যেন শান্তির পথে ফিরে আসেন। আলাপ আলোচনায় বসেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

তুরস্ক বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, এটা দশকের নয় শতাব্দীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত নিখাত বন্ধু। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ছিল তার পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি লেভেলে অনেকগুলো বৈঠক ছিল। তুরস্ক পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আরও উচ্চ পর্যায়ের অনেক সরকারি পর্যায়ের মিটিং হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের অনেকগুলো মিটিং হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ইন্টারন্যাশনাল যে কনফারেন্সে যোগদান করেছিলাম তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা। এখানে তুরস্কের পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছিলেন। তুরস্ক পার্লামেন্টের তুরস্ক বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যরা ছিলেন। এমপিরা ছিলেন। সরকারি দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা ছিলেন। তুরস্ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে আমরা বলেছি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে ব্যাপকভাবে। আমাদের এডুকেশন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, তাদের বিনিয়োগ, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।###

Facebook Comments Box