রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, কাঁচপুরে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলে আন্তঃজেলা রুটের কোনো বাস ঢাকায় আর ঢুকতে দেয়া সায়েদাবাদে আর আসবে না। এছাড়া কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে আরও একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণেও কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া, নিবন্ধনবিহীন কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন ঢাকায় আর চলতে দেয়া হবে না মঙ্গলবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ‘উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ৩ বছর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান মেয়র তাপস।
গত ৩ বছরে দক্ষিণ সিটিতে শতাধিক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ৩৪ একরের বেশি জমি উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
দখল বাণিজ্য ঢাকাবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করে চলছিল জানিয়ে শেখ তাপস বলেন, রাস্তা-মার্কেটের দোকান, অলি-গলি, কাঁচাবাজার, নর্দমা এমনকি নদী-নালাও ভ‚মিদস্যুদের কবল হতে রক্ষা পায়নি। কিন্তু দখল সাম্রাজ্যকে গুঁড়িয়ে দিতে আমরা অনমনীয়তা প্রদর্শন করেছি এবং আগামী দিনেও তা আমরা অব্যাহত রাখব। আমরা যেমন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটসহ অনেকগুলো মার্কেটের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছি তেমনি দখলমুক্ত করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল ঘিরে গড়ে ওঠা কয়েক ডজন অবৈধ বহুতল ভবন ও স্থাপনা।
গত ৩ বছরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে মেয়র তাপস বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আমরা রিকশাসহ মোট ৫ ধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ কার্যক্রমে ১ লাখ ৯০ হাজার ২১৭টি অযান্ত্রিক যানবাহনকে ইতিমধ্যে নিবন্ধন এবং সেগুলোর ডিজিটাল নম্বর প্লেট প্রদান করা হয়েছে। এ বছর থেকে নিবন্ধিত এসব অযান্ত্রিক যানবাহনকে নবায়ন করা হচ্ছে। আগামী দিনে নিবন্ধনবিহীন কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন আমরা ঢাকা শহরে আর চলতে দেব না।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, সরু গলি ঢাকার সচলতার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। সে প্রতিক‚লতা অতিক্রম করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গলি ১৪ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২০ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। পান্থপথ মোড় থেকে সোনারগাঁও রোড, বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির থেকে কালীমন্দির পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক ৩০ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য নূন্যনতম ৫ ফুট করে হাঁটার পথ সৃষ্টির উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ৫টি নতুন পথচারী পারাপার সেতু নির্মাণ ও ২টি পথচারী পারাপার সেতু সংস্কার করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ, পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিগত ৩ বছরে আমরা ৭টি খেলার মাঠ ও ৪টি পার্কের উন্নয়ন কাজ শেষ করেছি।
বিগত ৩ বছরে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, আমাদের সামগ্রিক কার্যক্রমের ফলে বিগত ৩ বছরে সড়ক ও হাঁটার পথে পড়ে থাকা শতভাগ উন্মুক্ত বর্জ্য ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য সরাসরি অন্তর্র্বতীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
শেখ তাপস বলেন, গত ৩ বছরে ৩৬টি ওয়ার্ডে নতুন অন্তরবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের ফলে বর্তমানে অন্তরবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮-তে উন্নীত হয়েছে। অথচ আমার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২২। এছাড়াও বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও অন্তরবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলমান। আমরা ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধনের মাধ্যমে সকল বাসা-বাড়ি ও স্থাপনা থেকে দৈনিক ভিত্তিতে বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করেছি। বর্তমানে দৈনন্দিন ভিত্তিতে রাত ৯টা হতে ভোর ৬টার মধ্যে সকল রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতে দুইবার সকল উন্মুক্ত নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ টেনে দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গত ৩ বছরে ১৩৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা শহর এখন আর ডুবে যায় না। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, খাল, নর্দমা, বক্স কালভার্ট থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়ন, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধার এবং খাল সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির মতো কার্যক্রমের সুফল নগরবাসী ইতোমধ্যে পাওয়া শুরু করেছেন। ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শাখা প্রশাখাসহ ১১টি অচল খাল, বর্জ্যে জমাট বদ্ধ ৫টি বক্স কালভার্ট ও প্রায় ২০০ কিমি দৈর্ঘ্যরে নলিকা নর্দমার মালিকানা দক্ষিণ সিটিকে হস্তান্তর করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামানসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।














