রাজধানীর প্রগতি সরণির মেরুল বাড্ডায় চলন্ত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)। আর ফুটব্রিজটির আদল হবে নৌকার। গতকাল বুধবার মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন। ফুটব্রিজ হলেও তার উপরে থাকবে গাছপালা। পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় চাইলে গাছের নিচে বেঞ্চে বসে একটু বিশ্রাম নিতে পারবেন। ব্রিজে উঠতে কষ্ট করতে হবে না, এর দুই প্রান্তেই থাকছে চলন্ত সিঁড়ি। হাতিরঝিল লাগোয়া এই ফুটব্রিজটি তৈরি হচ্ছে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আফতাবনগর, মেরুল বাড্ডা এবং আশপাশের এলাকার পথচারীদের জন্য। এই ফুটব্রিজ তৈরিতে খরচ হচ্ছে তিন কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর নকশা করেছেন আরবিকো কনসালটেন্টস লিমিটেডের স্থপতি শারেক রউফ চৌধুরী এবং নূরে দীফা চৌধুরী।
ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ফুটব্রিজের নকশা এবং স্থান নির্বাচনে হাতিরঝিলের বিষয়টি চিন্তা করা হয়েছে। এটি একটি নান্দনিক ফুটওভারব্রিজ হবে। এটি যাতায়াত এবং মালামাল পরিবহনের প্রধান বাহন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার আদলে করা হবে। কেউ যখন পার হবেন চাইলে ফুটওভারব্রিজের ওপরেই বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। আমরা সেখানে নানা ধরনের গাছ লাগানোর জায়গাও রেখেছি।
রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের আহবান জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ফুটওভার ব্রিজ বানিয়ে দিলাম কিন্তু জনগণ রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে না এটা হতে পারে না। দুর্ঘটনা রোধে যত্রতত্র এলোমেলোভাবে দৌড় দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধু ফুটওভার ব্রিজ বানালেই হবে না। আমাদের সবাইকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। অভিভাবকদের ও শিক্ষকদের অনুরোধ করছি আপনারা ছেলেমেয়েদেরকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করার কথা বলবেন । স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকগণ সচেতন হলে অনাকঙ্খিত দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দৃষ্টি নন্দন হাতিরঝিল উপহার দিয়েছেন উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, হাতিরঝিলে সবাই বেড়াতে আসে। ঢাকার ও দেশের ব্রান্ডিং করতে দৃষ্টি নন্দন হাতিরঝিল ব্যবহৃত হয়। এই হাতিরঝিলের পাশেই আফতাবনগরে ফুটওভার ব্রিজটি হচ্ছে। তাই আমি আমাদের ডিএনসিসির প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দিয়েছি, এই ফুটওভার ব্রিজটি যেন দেখতে সবচেয়ে সুন্দর হয়, দৃষ্টিনন্দন হয়। এই ফুটওভার ব্রিজটি নৌকার আদলে দৃষ্টি নন্দনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘এডিস মশা সবার জন্যই হুমকি। অতএব এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে এই ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। যদিও সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। কার্যকরী লার্ভিসাইডিং করছি, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। কিন্তু সবার সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না। এসময় এডিসের লার্ভার উৎস পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, মাটির পাত্র, খাবারের প্যাকেট, অব্যবহৃত কমোড এগুলো দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন তিনি। জনগণকে গাছ লাগানোর আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘সবুজে বাস, বারো মাস এই স্লোগানের মাধ্যমে আমারা বৃক্ষরোপণ শুরু করেছি। ডিএনসিসি এলাকার ফুটপাতে, সড়ক বিভাজকে গাছ লাগানো হবে। আগামী দুই বছরে দুই লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। কোন জায়গা খালি রাখতে চাই না। ফুটপাতে ছাতিম, বকুল, কাঠ বাদাম, কৃষ্ণ চূড়া, সোনালু, সড়কের মিডিয়ানে কাঁটা মেহেদী, রংগন, করবী ও বাগান বিলাস , বামন জারুল, রসকাউ লাগানো হবে। আর আমাদের খালের পাশে বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছ, আম, জাম, কাঁঠাল ও ঔষধি গাছ লাগাবো। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য উপদেষ্টা, বোর্ড অব ডিরেক্টরস প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এম শহিদুল হাসান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী জিয়াউল বাসেত, ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুম গণি, ৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
















