পত্রিকা বিক্রি করে দৈনিক আয় হয় ১০০ টাকা এতেই সংসার চলে বৃদ্ধ আবদুস সালাম মিয়ার, প্রতিদিন পত্রিকা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেন খবরের কাগজ । তাঁর নেই রোদ, নেই বৃষ্টি, নেই ঝড় শত বাঁধা উপেক্ষা করে পত্রিকা বিলি করাই তার কাজ। সালাম মিয়া সার্বক্ষণিক খবর নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু তাঁর খবর ক’জন রাখেন? যার কথা বলছিলাম, কলাপাড়ার প্রবীণ হকার আবদুস সালাম মিয়া। তাঁর জীবনের গল্প শোনাচ্ছেন নাজমুস সাকিব-
শুরু থেকেই সংগ্রাম: বয়স সত্তরের কোটায় পৌঁছেছে। চেহারায় বয়সের ছাপ। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় হাঁটতে অসুবিধা হয় তাঁর। চাইলেও অন্য কাজ করতে পরে না আবদুল সালাম মিয়া, বাধ্য হয়ে
পত্রিকার বিলির কাজ করতে হয় তাঁকে। অভাবের সংসার ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে চলে তাঁর জীবন সংগ্রাম।
পত্রিকা বিক্রি: এজেন্টদের কাছ থেকে পত্রিকা কিনে পাঠকের কাছে বিক্রি করাই এখন তার প্রতিদিনের কাজ। যে টাকা উপার্জন হয়, তা দিয়ে কোনমতে টেনেটুনে সংসার চলে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় ভারী কাজও করতে পারেন না। কোন সাহায্য-সহযোগিতাও পান না।
কাগজে অনেক মানুষের গল্প ছাপা হয়। শুধু তার মতো খবরের পেছনের মানুষগুলোর খবর ছাপা হয় না। প্রতিদিন কত খবর পৌঁছে দেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। সবাইকে খুশি করেন তিনি। খবর পৌঁছান সঠিক সময়ে। কিন্তু নিজের জীবনের খবরটাই তিনি ভুলে যান।
এলাকার ছোট বড় সকল লোকেরা তাকে সালাম ভাই নামেই চেনেন। পত্রিকা বিলি করতে গিয়ে কত লোকের সাথেই তো পরিচয় হয় তার। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে নিজের জীবনের অসহায়ত্বের কথা কখনো বলা হয়ে ওঠে না। তাই হয়তো নামিদামি লোকেরা তার কষ্টের কথা জানতেও পারেন না।
ছোট একটা বাড়িতে থাকেন আবদুল সালাম । কখনো কখনো খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করেছেন। সেই সব স্মৃতি এখনো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অভাবের সেই অভিশাপ যেন এখনো শেষ হয় না।
লেখকঃ শিক্ষার্থী আইন বিভাগ
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ
akmnazmuzsakib@gmail.com
ভিন্নবার্তা/এমএসআই














