আমাদের লক্ষ্য মশক প্রজননের আধার বিনষ্ট করা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য মশক প্রজননের আধার বিনষ্ট করা। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে নিজস্ব স্থাপনা, বাড়ি, আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানির আধার বিনষ্ট করা এলাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব । শনিবার বাসাবো কালিমন্দির সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগ বিস্তাররোধে মশক নিধনে জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ পরবর্তী গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়কালে মেয়র এ মন্তব্য করেন।

যে সকল ওয়ার্ডে ১০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি, সে সকল ওয়ার্ডকে আমরা ‘লাল চিহ্নিত’ করেছি উল্লেখ শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, লাল চিহ্নিত মানে বিপজ্জনক। সেখানে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সে আশঙ্কা থেকেই আমরা লাল চিহ্নিত করেছি এবং এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করেছি। বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাড়ির মালিক, সকল স্থাপনার মালিক, সকল সামাজিক সংগঠন, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস সবাইকে সম্পৃক্ত করে এই ওয়ার্ডগুলোতে আমরা দিনব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সকালে লার্ভিসাইডিং ও বিকালে এডাল্টিসাইডিংসহ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করব। যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের এই কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে এবং অংশগ্রহণ করেছে আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে আমাদের প্রতিদিনকার যে কার্যক্রম সেটাও ব্যাপক উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ডঙ্গু রোগে প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারেও আমাদের রোগীর সংখ্যা ৭০ এর নিচে চলে এসেছে। কিন্তু সেখানে আমরা কোন সন্তুষ্টির ঢেকুর নিতে চাই ন। এটা ভরা মৌসুম। এখানো বর্ষা শেষ হয়নি। সুতরাং পানি কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই জমবে। যেহেতু ভাদ্র মাস ভরা মৌসুম সুতরাং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আমরা আরো বেগবান করেছি। যেহেতু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি সেহেতু এই সুযোগে আমরা যদি একদম নির্মুলের পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে সামনের দিনে আর বৃদ্ধি হতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্য হলো মশক প্রজননের আধার বিনষ্ট করা। আমরা যতই সোর্স রিডাকশন করতে পারবো আমাদের কার্যক্রম ততই ফলপ্রসূ হবে। সেজন্য জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতেই আমরা এই কার্যক্রম নিয়েছি।

এ সময় মার্শাল এগ্রোভেট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ তাপস বলেন, আমরা কারো মাধ্যমে (কীটনাশক) আমদানি করি না। ২০১৯ সালের পর থেকে আমরা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উৎপাদনকারীর কাছ হতে সরাসরি আমদানি করি। সে প্রতিষ্ঠানও কিন্তু সরকার কর্তৃক নির্ধারিত। সেখানে সকল অনুমতি যেমন কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমতি, কীটনাশক যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের অনুমতি নেওয়া রয়েছে এবং আমাদের কীটনাশক কমিটি আমাদের যে কীটনাশক নির্ধারণ করে দেয় এর বাইরে আমরা কোনো কীটনাশক ব্যবহার করি না। আমরা শুধু (আমদানিকৃত কীটনাশকের) মিশ্রণটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করে থাকি। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যথাযথভাবে এবং আমাদের নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম মূল্যে তারা কাজ পেয়েছে। আমাদের সাথে তাদের যে চুক্তি এখন পর্যন্ত আমরা সেটির কোনো ব্যত্যয় লক্ষ্য করিনি।

সুতরাং অন্য কোথাও ঘটনা ঘটলেও আমাদের এখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কড়র্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, ২ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাসসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও ওয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও কাউন্সিলরবৃন্দ অংশ নেন।

Facebook Comments Box