হঠাৎ হামলা করে সফলতা পেলো হামাস

কোনো প্রকার পূর্বাভাস ছাড়াই শনিবার ভোরে হামাসের আকস্মিক হামলায় কেঁপে উঠল ইসরাইলের সীমান্ত শহরগুলো। প্রথমবারের মতো প্যারাগ্লাইডে উড়ে ইসরাইলের ভেতরে ঢুকে পড়ে হামাস।

ড্রোন, রকেটচালিত গ্রেনেড, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দেয় ইসরাইলকে। সীমান্তের কাছাকাছি কয়েক সামরিক ঘাঁটি ও পুলিশ স্টেশন দখল করে নেয়।

নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে সেনা-বেসামরিক নাগরিকসহ জিম্মি করে একশ’রও বেশি ইসরাইলিকে। হামাসের সেদিনের সেই লক্ষ্যবস্তুগুলোই সোমবার ফুটে উঠেছে সিনএনএনের প্রতিবেদনে।

বে’রি

সীমান্ত থেকে মাত্র দুই মাইলের কাছাকাছি চলছিল একটি আউটডোর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। সেখানে কিছু অংশগ্রহণকারী প্রথমে রকেটের শব্দ শুনতে পায়।

হামাসের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন একটি ইসরাইলি ট্যাংকে হামলা চালায়। অতঃপর সেখার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

কনসার্টে অংশগ্রহণকারীরা জানান, রকেট ও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর গোলাগুলি শুরু হয়। আইডিএফের মতে, জঙ্গিরা গাজা সীমান্ত থেকে প্রায় তিন মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি কিবুটজ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল। সশস্ত্র ফিলিস্তিনিরা বেইরি কিবুটজের চার পাশে ঘোরাফেরা করে একাধিক ইসরাইলিকে বন্দি করেছিল। এই জিম্মিদের বর্তমান অবস্থান অজানা।

এরেজ ক্রসিং

হামাসগোষ্ঠীরা বিস্ফোরক নিয়ে সীমান্ত লঙ্ঘন করে ইরেজ সামরিক স্থাপনায় প্রবেশ করে। উল্লেখ্য, এরেজ ক্রসিং হলো গাজা স্ট্রিপ এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রধান সীমান্ত ক্রসিং। যোদ্ধাদের তখন একটি গার্ড টাওয়ারে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বন্দুকধারী মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় একজন ব্যক্তির ওপর গুলি চালাচ্ছেন। দুই ইসরাইলি পুরুষকে সেসময় জিম্মি করতেও দেখা যায়। হামাসগোষ্ঠী পরবর্তীতে ঘাঁটির আরও গভীরে প্রবেশ করে। সেখানে একটি ইসরাইলি পতাকা এবং একটি ইসরাইলি জিপ দখল করে। সেসময় মাটিতে বেশ কয়েকটি প্রাণহীন মৃতদেহ দেখা যায়।

নাহাল ওজ

সিএএনএনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক ডজন হামাস যোদ্ধা বন্দুক, গ্রেনেড এবং বোমা নিক্ষেপকারী ড্রোন দিয়ে সজ্জিত ছিল। পরবর্তীতে নাহাল ওজের বাইরে একটি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় দুজন ইসরাইলি সৈন্য নিহত হয়েছে। ঘাঁটিতে উপস্থিত অন্তত ছয়জন মহিলা সৈন্যকেও বন্দি করতে দেখা যায়।

ঘাঁটির বাইরে একটি চলন্ত ইসরাইলি সামরিক গাড়ির ওপর একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ঘাঁটিতে কতজন সেনা মোতায়েন ছিল বা গোলাগুলি হয়েছে কিনা তা ভিডিওগুলো থেকে স্পষ্ট নয়।

সুফা

মিসরের সাথে ইসরাইলের সীমান্তের কাছে সুফার কিবুতজের কাছে একটি বেড়ার কাছে আততায়ীদের দেখা যায়। সেখানে একটি ট্যাংকসহ ইসরাইলি সামরিক যান দেখা যাচ্ছিল। এই হামলাটি ইসরাইলের ওপর হামাসের দক্ষিণতম স্থল হামলা বলে মনে হচ্ছে।

জিকিম সৈকত

ইসরাইল সেনাবাহিনীর বক্তব্য, হামাস নৌপথে এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। শনিবার ভোরে দুটি রাবার বোট এবং অন্য দুটি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। সন্ধ্যায় আইডিএফ প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি নৌবাহিনীর জাহাজ হামাসের একটি জাহাজে গুলি চালাচ্ছে।

Facebook Comments Box