আ.লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হোসেনকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর হাটপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন সদর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের মো. নুর আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও পরিবহন ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শামীম নাজিরপুর নীলু মার্কেটের একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, শামীম গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৪র্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধুর পক্ষে কাজ করেন। এর আগে থেকেই মধুর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলামের (নিলু চেয়ারম্যান) বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে নিলু চেয়ারম্যান তার ছেলে ও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এদিকে নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধুও দাবি করেন নিহত শামীম তার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। এবারের নির্বাচনে শামীম তার পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করেছেন। এজন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি শামীমসহ অন্য কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসীরা এসে কয়েক রাউন্ড গুলি করে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, তারা আমাকেই হত্যা করতে এসেছিল। শামীম সামনে পড়ায় সে খুন হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতকদের ধরতে এলাকায় পুলিশি অভিযান চলছে। প্রসঙ্গত, হেমায়েতপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

সবারবাংলা/এসাআই

Facebook Comments Box