বগুড়া শহরে ছুরিকাঘাতের প্রতিশোধ নিতেই ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ মণ্ডলকে (২১) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতে দুই ভাইসহ তিনজনকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে গ্রেফতার করেছে। তারা তাবলিগ জামায়াতের মুসল্লি সেজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৫ ডিসেম্বর রাতে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের পর তারা হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে তাবলিগ জামাতের মুসল্লি সেজে আত্মগোপন করতেই ঢাকার ওই মসজিদে গিয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার ও জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছে। বিকালে তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি আদায়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন।
গ্রেফতার তিনজন হলেন- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়ার মিলু শেখের দুই ছেলে মুল আসামি সাকিব শেখ (১৯) ও সানমুন শেখ (২৩) এবং একই এলাকার হাতেম আলী গেদার ছেলে হিমেল শেখ (২৩)। এর মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ ও এজাহার সূত্র জানায়, নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ মণ্ডল বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা বগুড়া পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল ইসলামের ছেলে। আরিফ মা তহিরন বেগমের সঙ্গে সুলতানগঞ্জপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ভাগ্নে মুহিমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জের ধরে আরিফ গত ৭ অক্টোবর সাকিবকে ছুরিকাঘাতে আহত করে।
সাকিবের বাবা মিলু শেখ সদর থানায় আরিফকে প্রধান আসামি করে ১৯ অক্টোবর মামলা করেন। পুলিশ আরিফকে গ্রেফতার করলে তিনি ১৮ দিন জেলহাজতে ছিলেন। জামিনে ছাড়া পেলে আসামিরা তাকে (আরিফ) হত্যার পরিকল্পনা করে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে তারা গত ৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুলতানগঞ্জপাড়ায় একটি ওয়ার্কশপের সঙ্গে হাঁসুয়া, এসএস পাইপ ও লোহার রড নিয়ে ওতপেতে থাকে। এ সময় আরিফ শহর থেকে সেখানে পৌঁছলে তাকে ধাওয়া করে ধরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা দুটি হাঁসুয়া ও তিনটি এসএস পাইপ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা প্রথমে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে। হিলি সীমান্ত পথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে। ব্যর্থ হওয়ায় তারা ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেয়। সেখানে তাবলিগ জামায়াতের মুসল্লি সেজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
গোপনে খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশের টিম অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতা মঙ্গলবার রাতে কাকরাইল মসজিদ থেকে আরিফ হত্যার প্রধান আসামি সাকিব শেখ, তার ভাই সানমুন শেখ ও বন্ধু হিমেল শেখকে গ্রেফতার করে। বগুড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের নাম প্রকাশ করে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
















