একই পরিবারের ৫ জনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, গ্রেফতার ২

দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধীৎপুর এলাকায় মঙ্গলবার রাতে জুলহাস উদ্দিনের বাড়ির মূল ফটক ও ঘরে তালাবদ্ধ করে চতুর্দিকে পেট্রল ঢেলে আগুন জালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘরে থাকা ৫ জনই আগুনে ঝলসে যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে র্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থেকে ঘটনার মূলহোতাসহ ১ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।

দোহার থানা পুলিশ সূত্র জানায়, জুলহাস উদ্দিনের বসতবাড়িতে ওই দিন রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জুলহাসের ভাই বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং মূলহোতা ধীৎপুর এলাকার সুলতান শেখের ছেলে মো. রুবেল ও তার সহযোগী একই এলাকার বাসিন্দা নুরু শেখের ছেলে রানা মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদের বিষয়ে অভিযান চলমান আছে।

অপরদিকে এ ঘটনায় র্যাব-১০ গণমাধ্যমকে শুক্রবার দুপুরে জানায়, গ্রেফতারকৃত রুবেল পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। দীর্ঘদিন ধরে জুলহাসের বাড়িতে বসবাস করত। হঠাৎ জুলহাস রুবেলের গতিবিধি ভালো না হওয়ায় তাকে অন্যস্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে রুবেল ও জুলহাসের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং রুবেল জুলহাসকে দেখে নেওযার হুমকিও দেন। তার ১৪ দিন পরই রুবেল ও তার সহযোগীরা তার পরিবারের লোকদের হত্যা করতে মঙ্গলবার রাতে জুলহাস উদ্দিনের বাড়ির মূল ফটক ও ঘরে তালাবদ্ধ করে চতুর্দিকে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে গ্রেফতারকৃত রুবেল র্যাব-১০ এর কাছে স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় জুলহাস উদ্দিন শেখ, তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার, মেয়ে জান্নাত, ছেলে জুনায়েদ ও ভাতিজি তাবাসসুম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই রাতে আগুনে জুলহাসের ঘরে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকার আসবাপত্র পুড়ে যায় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার থানার ওসি হারুন অর রশিদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও দোহার থানায় মামলা হয়। দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়ে র্যাব-১০-এর উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

Facebook Comments Box